• রাজ্যে লাগু হয়েছে CAA, আবেদনের জন্য ভিড় বাড়ছে ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে, নিচ্ছেন ধর্মীয় সার্টিফিকেট
    News18 বাংলা | ২৭ মে ২০২৬
  • গত ২১ মে- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, ওইদিন থেকেই রাজ্যে কার্যকর করা হবে Citizenship (Amendment) Act, অর্থাৎ, CAA৷ এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে এতদিন নাগরিকত্ব নিয়ে যে সমস্যা এবং টানাপড়েন ছিল, তাতে ইতি পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আশায় বুক বেঁধেছেন তাঁরা৷

    বুধবার তাই ধর্মীয় সার্টিফিকেট নিতে এবং সিএএ-তে আবেদন করবার জন্য ভিড় বেড়েছে বলে দেখা গেল ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে। সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হতেই আবেদন জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

    সম্প্রতি রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা গিয়েছে তাঁরা যদি সিএএ-র আওতায় আবেদন না করেন, তাহলে তাঁরা সমস্ত সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। সরকারের ঘোষণার পরেই ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে সিএএ সহায়তা কেন্দ্র থেকে ধর্মীয় সার্টিফিকেট নিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের ভিড় অনেক অংশেই বেড়েছে।

    ধর্মীয় সার্টিফিকেট নিতে আসা সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, ‘‘আগের সরকার বলেছিল তাঁদের অসুবিধা হবে না। আগের সরকার আমাদের ভুল বুঝিয়েছিল। সেই কারণে ধর্মীয় সার্টিফিকেট নিতে ও সিএএ-তে আবেদন করতে এসেছি। ’’

    শান্তনু ঠাকুরের অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহসংঘের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আগের থেকে ঠাকুরবাড়িতে ভিড় অনেক বেশি৷ কারণ, আগের সরকার হুঙ্কার দিয়েছিল যে সিএএ-তে আবেদন করবেন না, সেই কারণে মানুষ আবেদন করেননি। কিন্তু বর্তমান সরকার যা ঘোষণা করেছে তাতে সিএএ-তে আবেদন না করলে সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন তাঁরা, সেই কারণে ভিড় বেড়েছে।

    কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরে জানিয়েছেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে ঘোষণা করেছেন যে, যাঁদের ভোটার তালিকায় নাম নেই, তাঁরা সিএএ-র আওতায় আবেদন না করলে সমস্ত পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হবেন। সেই কারণেই ঠাকুরবাড়িতে ধর্মীয় সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য ভিড় বেড়েছে। আমি সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে আগেও বলেছিলাম আবারও বলছি যে, আপনারা সিএএ-তে আবেদন করুন। ’’

    গত ২১ মে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে যাঁরা CAA-র আওতায় নেই তাদের সরাসরি গ্রেফতার করবে রাজ্য পুলিশ৷ পাশাপাশি, CAA-র আওতায় থাকলে কোনওরকম হয়রানির শিকার হতে হবে না, তাও জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷

    মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে এর আগের সরকার CAA দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরোধিতা করেছে৷ আজ (বুধবার) থেকে আমরা এই আইন কার্যকরী করলাম। CAA-এর আওতায় যারা আছেন তাদের পুলিশ কোথাও হয়রানি করতে পারবে না। যারা CAA-এর আওতায় নেই তাদের সরাসরি রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করবে। তাদের ডিটেক্ট(চিহ্ণিত করা), ডিলিট (বাদ দেওয়া) ও ডিপোর্ট (স্থানান্তরিত) করবে। Bdf এর সাথে কথা বলে তাদের তারপর ডিপোর্ট করবে। আজ এই ঘোষণা করলাম।’’
  • Link to this news (News18 বাংলা)