বুধবার দুপুরে আচমকাই আসে দুঃসংবাদ—পরিচালক অনীক দত্তের অস্বাভাবিক মৃত্যু। স্ত্রী সন্ধি দত্তের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এর পরিচালকের। ঘটনাস্থল থেকে ইতিমধ্যেই পুলিশ উদ্ধার করেছে একটি সুইসাইড নোট। গড়িয়াহাটের কাছে নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে হিন্দুস্তান পার্কে সন্ধির ফ্ল্যাটে পৌঁছনোর পরে এবং দুর্ঘটনার আগে ঠিক কী ঘটেছিল? সরাসরি ছাদে উঠে গিয়েছিলেন অনীক নাকি সন্ধির সঙ্গে দেখা হয়েছিল পরিচালকের? ঘটনাস্থলে পৌঁছে কী জানালেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (সাউথ-ইস্ট ডিভিশন) সৈকত ঘোষ?
গড়িয়াহাটের কাছে একটি আবাসনে থাকতেন অনীক দত্ত। এ দিন তাঁর স্ত্রী সন্ধি দত্তের হিন্দুস্তান পার্কের আবাসনে গিয়েছিলেন পরিচালক, প্রাথমিক তদন্তের পরে তেমনটাই জানিয়েছে পুলিশ। সেই ফ্ল্যাটের ছাদ থেকে পড়ে গিয়েই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। ডেপুটি কমিশনার সৈকত ঘোষ বলেন, ‘খুব জোরে আওয়াজ হওয়ায় স্থানীয় লোকজন ও কয়েকজন পথচারী ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। পরিবারের লোকজনেরা এসে পরিচালকের দেহ শনাক্ত করেছেন। এর পরে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।’
ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে অনীকের মৃত্য়ুর ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের পরেই মৃত্য়ুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। ঘটনাস্থলের ফরেন্সিকও করানো হবে, জানিয়েছেন ডিসি (এসইডি) সৈকত ঘোষ। পুলিশের তরফে আরও জানানো হয়েছে, একটা সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে ঘটনাস্থল থেকে। তবে কেন এমন পদক্ষেপ করলেন পরিচালক, এর পিছনে কী কী কারণ রয়েছে, সব দিকই খতিয়ে দেখছে গড়িয়াহাট থানা এবং লালবাজারের হোমিসাইড শাখার পুলিশ।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এ দিন স্ত্রী সন্ধি দত্তের সঙ্গে দেখা করতে ১১ নম্বর হিন্দুস্তান পার্কের আবাসনে গিয়েছিলেন অনীক। তাঁর স্ত্রী সেই সময়ে হিন্দুস্তান পার্কের ফ্ল্যাটে ছিলেন। তার পরে অনীকের সঙ্গে সন্ধির কী কথোপকথন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ডেপুটি কমিশনার সৈকত ঘোষ। অনীকের সঙ্গে কি এ দিন দেখা হয়েছিল তাঁর স্ত্রীর? এ প্রসঙ্গে সৈকত বলেন, ‘অনীকবাবুর স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি ফোনে শুনেছিলেন যে তাঁর স্বামী আসছেন।’ কিন্তু কখন তিনি (অনীক দত্ত) সেখানে পৌঁছলেন, কী ভাবে ১০ মিনিটের মধ্যে সবকিছু ঘটে গেল, সেই ঘটনাক্রম সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করার কাজ শেষ হয়নি পুলিশের। ডিসি (এসইডি) সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ’এখনও পর্যন্ত আলাদা করে সন্ধি দত্তের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়নি।’