হিন্দুস্তান পার্কে স্ত্রীর বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু পরিচালক অনীক দত্তের (৬৩)। গড়িয়াহাট থানা সূত্রে খবর, বুধবার সকালে তাঁকে দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিচালকের প্রয়াণে শোকের ছায়া টলিউডে। পরিচালকের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে যান বিধায়ক-অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ।
এ দিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রুদ্রনীল বলেন, 'অনীকদা এমন একজন মানুষ ছিলেন, যাঁর সঙ্গে ঝগড়া এবং তর্ক করার পরে একটা অদ্ভুত শান্তি পাওয়া যেত। অনীকদার কোনও তুলনা নেই। পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। অনীকদার যাঁরা বন্ধু এবং কাছের মানুষ, তাঁদের জন্য এটা অপূরণীয় ক্ষতি। অনীকদা কখনও আপসের রাস্তায় হাঁটেননি। নিজের মতে বাঁচতেন।'
এ দিন হাসপাতাল থেকেই অনীক দত্তকে নিয়ে নানা স্মৃতি ভাগ করে নিলেন রুদ্রনীল। অনীক ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পা দেওয়ার আগে কাজ করতে বিজ্ঞাপনে। বিজ্ঞাপনী জগতে অনীকের সঙ্গে কাজ করেছেন রুদ্রনীল। সেই সময়ের স্মৃতিতেও ডুব দিলেন রুদ্রনীল। তিনি জানালেন, 'ভবিষ্যতের ভূত' ছবিতে তাঁর কাজ করার কথা ছিল।
রুদ্রনীল বলেন, 'বিজ্ঞাপন জগতে অনীকদার অবদান অনেক। বিজ্ঞাপনে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি। 'ভবিষ্যতের ভূত'-এ আমার কাজ করার কথা ছিল। আমাকে ফোন করে বলেছিল, এই রুদ্র তুমি আমাকে চিনতে পারছো? আমরা একসঙ্গে কাজ করতাম। মাস তিনেক আগে এক প্রিমিয়ারে আমাদের দেখা হয়েছিল। তিনি 'অপরাজিত' হয়ে থেকে গেলেন।'
অনীক দত্তর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেন নারী ও শিশু কল্যাণ ( এবং সমাজ কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এক্স হ্যান্ডলে-পোস্ট করে অগ্নিমিত্রা লেখেন, 'পরিচালক অনীক দত্তের আকস্মিক প্রয়াণে আমি গভীর ভাবে শোকাহত। তাঁর অকাল মৃত্যু শুধু টলিউড নয়, গোটা চলচ্চিত্র জগতের জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি। নিজের অসাধারণ কাজ এবং সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন। বাংলা সিনেমাকে সমৃদ্ধ করতে তাঁর অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবার, প্রিয়জন, বন্ধু এবং অসংখ্য অনুরাগীর প্রতি। আমার আন্তরিক সমবেদনা রইল। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি। ওঁ শান্তি।'