পরিচালক অনীক দত্তের রহস্যমৃত্যুতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বুধবার দুপুরে তাঁর মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ্যে আসতেই স্তম্ভিত টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়া। এভাবে আকস্মিকভাবে যে তিনি চলে যাবেন, তা কেউই বিশ্বাস করতে পারছেন না। অনীকের মৃত্যুতে এবার শোকপ্রকাশ করলেন জনপ্রিয় লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)।
সমাজমাধ্যমে তমলিমা লেখেন, ‘অনীক দত্তের মৃত্যুর খবর শুনে মন খারাপ হয়ে গেল। কী অসাধারণ নির্মাতা ছিলেন তিনি! বয়স তো খুব বেশি হয়নি। সাহসী ছিলেন খুব। কোনও এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তসলিমাকে তাড়ানো উচিত হয়নি। এই সামান্য কথাই বা কলকাতার নামীদামি লোকেরা কে উচ্চারণ করে! অনীক দত্তের সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না। কিন্তু অপরাজিত দেখার পর শতবার নমস্কার করেছি। ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু! অ্যানাটমি অফ ফল সিনেমাটার কথা খুব মনে পড়ছে। কেউ ধাক্কা দিল? না কি নিজেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? না কি বুঝতে পারেননি? অসাবধানতায় ঘটনাটি ঘটে গিয়েছে? মৃত্যুটা ভয়ংকর! প্রতিভাবান মানুষ চলে গেল। আমি তাঁকে চিনি বা না চিনি, কষ্ট হচ্ছে।’
বুধবার দুপুরে আচমকাই টলিউডে আছড়ে পড়ে অনীকের প্রয়াণ সংবাদ। জানা গিয়েছে, বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন পরিচালক। এরপর সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু ভরদুপুরে এই হাঁসফাঁস গরমে কেনই বা অনীক ছাদে গেলেন? এবং কীভাবেই বা চার তলা থেকে নিচে পড়লেন? খবর প্রকাশ্যে আসার পর এহেন একাধিক প্রশ্ন মাথাচাড়া দিচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে অনীকের গড়িয়াহাটের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় সুইসাইড নোট।
পুলিশি সূত্রে খবর, সুইসাইট নোটে শুধু উল্লেখ রয়েছে- “এই ঘটনার জন্য কেউ দায়ী নয়।” প্রাথমিকভাবে অনুমান, পরিচালক আত্মহত্যাই করেছেন। কিন্তু একজন স্বনামধন্য পরিচালক আচমকাই কেন আত্মঘাতী হলেন? পাশাপাশি সেই কৌতূহলও শুরু হয়েছে সিনেমহলে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ওই সুইসাইড নোটের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করেছে। ওই হাতের লেখা আদৌ পরিচালকের কি না, সেটা খতিয়ে দেখতে ওই চিঠি ফরেন্সিকে পাঠিয়েছেন তদন্তকারীরা। অতঃপর ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ পরিচালকের মৃত্যু ঘিরে যে রহস্য ঘনাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।