• হাতে লেখা ‘সদা সৌভাগ্যবতী হও’, বিয়ের ৬ মাসের মধ্যে উদ্ধার শ্বেতার ঝুলন্ত দেহ, ত্বিষা শর্মার ঘটনার ছায়া উত্তরপ্রদেশে
    এই সময় | ২৮ মে ২০২৬
  • ‘সদা সৌভাগ্যবতী হও’। বিয়ের দিন মেহেন্দি দিয়ে এই কথাই লেখা ছিল শ্বেতা সিংহের (২৬) হাতে। ছয় মাসের মধ্যে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করল পুলিশ। সোমবার উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ভোপালের ত্বিষা শর্মার মতোই শ্বেতার শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে পণের দাবিতে অত্যাচারের অভিযোগ করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ইতিমধ্যেই শ্বেতার স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    গত বছরের নভেম্বরে ভূপেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় শ্বেতার। বৌভাতের দিনই পাত্রপক্ষ ১০ লক্ষ টাকা এবং একটি স্করপিও গাড়ির দাবি করেছিল বলে অভিযোগ শ্বেতার বাবা উমেশ সিংয়ের। তিনি বলেন, ‘টাকা, গয়না সব দিয়েছিলাম। কিন্তু ওরা আরও টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। আমি হাতে-পায়ে ধরে ওদের যা হোক করে রাজি করিয়েছিলাম।’ অভিযোগ, সেই সময়ে আর কথা বাড়াননি ভূপেন্দ্র। শ্বেতাকে নিয়ে রওনা হয়ে যান।

    এর পর থেকেই নববধূর উপরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ উমেশের। শুধু স্বামী ভূপেন্দ্র নন, তাঁর শাশুড়ি এবং আত্মীয়রাও শ্বেতাকে অপমান করতেন বলে অভিযোগ তাঁর। ক্রমশ মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ছিলেন শ্বেতা। নয়ডায় ভূপেন্দ্রর দিদি তাঁদের সংসারে নাক গলাতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। শুধু শ্বেতাকে নয়, তাঁর বাবার বাড়ির লোকেদেরও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হতো বলে দাবি করেছেন উমেশ।

    বিয়ের আগে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন শ্বেতা। অভিযোগ, সেই চাকরি ছাড়তেও বাধ্য করা হয় তাঁকে। শুধু তাই নয়, বাবার বাড়ির লোকেদের সঙ্গেও তাঁকে দেখা করতে দেওয়া হতো না বলে অভিযোগ। এমনকী ফোন করতেও বাধা দিতেন তাঁরা। শ্বেতার এক বোন কোমল সিং বলেন, ‘দিদিকে পুরো আলাদা করে ফেলাই ছিল ভূপেন্দ্রর লক্ষ্য।’

    মৃত্যুর দুই ঘণ্টা আগে বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন শ্বেতা। ফোন করেছিলেন বোনকেও। কিন্তু সেই সময়ে তাঁরা অস্বাভাবিক কিছু দেখেননি বলেই দাবি পরিবারের। কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর খবর পান তাঁরা। উমেশ, কোমলরা শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছনোর আগেই শ্বেতাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। ঘটনার পরেই লখনউ পুলিশের কাছে শ্বেতার শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন তাঁর বাবা উমেশ।

    উল্লেখ্য, মধ্যপ্রদেশের ভোপালে ত্বিষা শর্মার মৃত্যু ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। পণের দাবিতে প্রাক্তন মিস পুনেকে খুন করা হয়েছে বলে শ্বশুরবাড়ির দিকে আঙুল তুলেছিলেন তাঁর মা-বাবা। পাল্টা ত্বিষা মাদকাসক্ত ছিলেন অভিযোগ তাঁর শ্বশুরবাড়ির। এই নিয়ে টানাপড়েনের জেলে মামলা গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। ত্বিষা মৃত্যু মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই শ্বেতার মৃত্যুর ঘটনা সামনে এল।

  • Link to this news (এই সময়)