তিনি পুরুষ। তবে ‘লক্ষ্মী’ পুরুষ। অভিযোগ, তৃণমূল জমানায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন তিনি। প্রতি মাসে অ্যাকাউন্টে ঢুকত দেড় হাজার টাকা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। সাংবাদিক বৈঠকে রীতিমতো প্রমাণ-সহ সেই ‘দুর্নীতি’ ফাঁস করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অবশেষে বুধবার রাতে বহরমপুরের বাড়ি থেকে সেই রাকিবুল শেখকে আটক করল পুলিশ। গোটা ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক আর অর্জুন।
রাকিবুলের বাড়ি বহরমপুরের রাধারহাটে। পেশায় ব্যবসায়ী। রাস্তার ধারে একটি হোটেল রয়েছে তাঁর। বিরিয়ানি, চাউমিন বিক্রি করেন। অভিযোগ, তিন বছর আগে স্ত্রীর সঙ্গে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আবেদন করেছিলেন তিনি। সেই আবেদন মঞ্জুরও হয়ে যায়। তার পর থেকে প্রতি মাসে কড়কড়ে দেড় হাজার টাকা পেতেন বলে অভিযোগ।
এ দিন রাকিবুলের নাম-ঠিকানা-পরিচয় সামনে আনেন শুভেন্দু। তার পরেই শোরগোল পড়ে যায় গোটা রাজ্যে। অভিযানে নামে পুলিশও। রাকিবুলের খোঁজে শুরু হয় তল্লাশি। শেষ পর্যন্ত এ দিন সন্ধ্যায় রাকিবুলকে আটক করে বহরমপুর থানার পুলিশ। আপাতত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঠিক কী ঘটেছে, খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
রাকিবুল অবশ্য নিজে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করেননি বলে জানিয়েছেন। তা হলে টাকা পাচ্ছেন কী করে? বিস্মিত রাকিবুল বললেন, ‘সেটাই তো বুঝতে পারছি না।’ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে নিজের নাম বাদ দিতে বিডিও অফিসেই তিনি গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন। রাকিবুলের কথায়, ‘বলেছিলাম অফ করে দিন। কেউ পাত্তাই দিল না।’
ঘটনা সামনে আসতেই পুরো দায় বিডিও-র ঘাড়ে চাপিয়েছেন মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের প্রাক্তন পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তৃণমূলের রাজীব হোসেন। তিনি বলেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ফর্ম অনলাইনে ফিলআপ করা হয় বিডিও অফিস থেকে। ফলে কোনও ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে তার দায় ব্লক প্রশাসনকেই নিতে হবে। এর সঙ্গে পঞ্চায়েতের কোনও সম্পর্ক নেই।’ বহরমপুরের জেলাশাসক আর অর্জুন অবশ্য এই নিয়ে বিশেষ কিছু বলতে চাননি। তাঁর কথায়, ‘ঠিক কী ঘটেছে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’