আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে অন্নপূর্ণার ভাণ্ডারের ফর্ম পূরণের কাজ শুরু হতেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে টাকা বিলির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত দুর্নীতির ছবি প্রকাশ্যে চলে এল মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে। বুধবার নবান্ন থেকে অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার প্রকল্পে নাম নথিভুক্তকরণ এবং তার সুবিধা কীভাবে উপভোক্তারা পাবেন তার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়ার সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী জানান, মুর্শিদাবাদ জেলার রাকিবুল শেখ নামে এক ব্যক্তি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা দীর্ঘদিন ধরে পাচ্ছেন আসছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই শোরগোল পড়ে যায় প্রশাসনিক মহলে। এরপরই খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বহরমপুর থানা এলাকার রাধারঘাট-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত শিয়ালমারা গ্রামের বাসিন্দা জনৈক রাকিবুল শেখ নামে এক ব্যক্তি কেবলমাত্র মহিলাদের জন্য বরাদ্দ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে টাকা গত প্রায় দেড় বছর ধরে পাচ্ছিলেন। যদিও কীভাবে এবং কেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতো রাকিবুল তা জানতেন না বলে আজ দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, এই ঘটনার নেপথ্যে যদি কোনও দুর্নীতি হয়ে থাকে তার দায় সম্পূর্ণ সরকারি আধিকারিকদের বলে দাবি করেছেন ওই এলাকা থেকে নির্বাচিত মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের তৃণমূল কংগ্রেস সদস্য রাজীব হোসেন। তিনি বলেন, “দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে আবেদনের মাধ্যমে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা কেবলমাত্র মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতো। কোন ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে বা এই প্রকল্পের টাকা পাওয়ার জন্য কোন মহিলা যোগ্য, তা ঠিক করার কোনও ক্ষমতা জেলা পরিষদ বা গ্রাম পঞ্চায়েতের নেই। এই বিষয়ে সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী ছিলেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিক এবং বিডিও অফিসের কর্মীরা। তাই যদি কোনও ধরনের দুর্নীতি হয়ে থাকে এবং পুরুষ ব্যক্তি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেয়ে থাকেন তার কারণ সরকারী আধিকারিকরাই বলতে পারবেন।”
শিয়ালমারা এলাকার বাসিন্দা পেশায় ছোট হোটেল ব্যবসায়ী রাকিবুল শেখ বলেন, “আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কীভাবে টাকা ঢুকতো এই সম্পর্কে আমার কোনও ধারণা নেই। গত প্রায় দেড় বছর ধরে আমার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে।” যদিও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে টাকা ঢোকার পর তিনি সেই টাকা বন্ধ করার জন্য কোথাও আবেদন করেননি বলেও স্বীকার করে নিয়েছেন শিয়ালমারা এলাকার এই বাসিন্দা। তিনি বলেন, “যে সময় থেকে আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছিল তখন আমার টাকার দরকার ছিল। তাই কাউকেই আলাদা করে কিছু জানাইনি। তবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাওয়ার জন্য আমি কোথাও কোনও আবেদন করিনি।”
ওই হোটেল ব্যবসায়ী আরও দাবি করেন, কোনও রাজনৈতিক কারণও তাঁর অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢোকেনি। তিনি বলেন, “আমি একজন ছোট ব্যবসায়ী। আমি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিয়ে যুক্ত নই। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আমার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করার পর কয়েকজনকে সেটা জানিয়েছিলাম। তবে তাঁরা সকলেই আমাকে বলেছিল টাকা ঢুকছে, নিয়ে নে, আলাদা করে কিছু করতে হবে না।”
তবে রাকিবুল আজ স্বীকার করেছেন এইভাবে টাকা নেওয়া তাঁর অন্যায় হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুর্নীতির খবর প্রকাশ্যে আসতেই বহরমপুর থানার পুলিশ রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
অন্যদিকে, প্রশাসনের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে। রাজ্যে এসআইআর হওয়ার পর রাকিবুল এবং তার স্ত্রী সুলতানা পারভীনের নাম ভোটার তালিকায় নেই। দু’জনেরই নাগরিকত্ব নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে বলে প্রশাসনের কয়েকজন কর্তা জানিয়েছেন। ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য রাকিবুল এবং তার স্ত্রী ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছেন।
গোটা ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন বলেন, “তৃণমূলের আমলের এই ধরণের উৎকর্ষ দুর্নীতির নমুনা পেয়ে এবং দেখে আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। কী বলব সেই ভাষাই খুঁজে পাচ্ছি না।”