হ্যালের পাশাপাশি এবার বেসরকারি সংস্থাগুলিও ভারতে যুদ্ধবিমান তৈরি করবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে বুধবার তিনটি সংস্থার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই সংস্থাগুলি কীভাবে যুদ্ধবিমান তৈরি করবে, তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে নিজেদের প্রস্তাব রাখবে কেন্দ্রের কাছে। ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এ এক ঐতিহাসিক ঘটনা। এতদিন পর্যন্ত ভারতের দেশীয় যুদ্ধবিমান তৈরি করত কেন্দ্রের অধীনস্থ হিন্দুস্তান এরোনটিক্স লিমিটেড। এই প্রথমবার যুদ্ধবিমান তৈরির ভার যাচ্ছে বেসরকারি হাতে।
বুধবার কেন্দ্রের তরফ থেকে জানানো হয়, দেশের মাটিতে প্রথমবার তৈরি হবে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার জেট। ১৫০০০ কোটি টাকার প্রকল্পের তৈরি হবে পাঁচটি অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট। এই বিমান তৈরির দায়িত্ব কেন্দ্রের অধীনস্থ হ্যালকে দেওয়া হবে না। তিনটি বেসরকারি সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে দরপত্র জমা দেওয়ার জন্য। এর মধ্যে রয়েছে টাটা, লারসেন অ্যান্ড টিব্রো এবং ভারত ফোর্জ। আগামী বছরের শুরুর দিকেই যুদ্ধবিমানের নমুনা তৈরি হবে। ২০২৮ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে পঞ্চম প্রজন্মের প্রথম যুদ্ধবিমানটি তৈরি হয়ে যাবে। ডিআরডিও’র নকশা এবং নজরদারিতে যুদ্ধবিমান তৈরি করবে বেসরকারি সংস্থাগুলি।
পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার বিমান আপাতত আমেরিকা, চিন এবং রাশিয়ার হাতে রয়েছে। বেসরকারি সংস্থার তৈরি এই যুদ্ধবিমানগুলি ২০৩৫ সালে ভারতীয় বায়ুসেনার ব্যবহারযোগ্য হবে বলে আপাতত অনুমান করা হচ্ছে। চতুর্থ দেশ হিসাবে এই যুদ্ধবিমান আসতে চলেছে ভারতের হাতে। আমেরিকা-রাশিয়ার মতোই শক্তিশালী হবে ভারতের এই যুদ্ধবিমানও। ৫৫ হাজার ফিট উচ্চতায় এই বিমান উড়তে পারবে, মোট ৭০০০ কেজি ভারবহনে সক্ষম। অন্ধ্রপ্রদেশে তৈরি হবে নতুন এই যুদ্ধবিমানগুলি।
দিনকয়েক আগে খবর ছড়ায়, চিনে পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান (রাডারে অদৃশ্য)-এ প্রশিক্ষণ নিচ্ছে পাক সেনা। অনুমান, শীঘ্রই এই বিমান কিনবে পাকিস্তান। যা ভারতের জন্য সিঁদুরে মেঘ। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরে জানা যায়, ৪.৫ জেনারেশনের ১১৪টি রাফালে যুদ্ধবিমান কিনছে ভারত। দেশের প্রতিরক্ষা আরও জোরদার করতে এবার ভারতের মাটিতেই তৈরি হবে যুদ্ধবিমান। তবে এই প্রথমবার বেসরকারি সংস্থায় তৈরি হবে উন্নত যুদ্ধবিমান। উল্লেখ্য, আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্সের মতো দেশগুলিতেও যুদ্ধবিমান তৈরি হয় বেসরকারি সংস্থায়। ভারতে এতদিন তা হয়নি। এবার প্রতিরক্ষায় নতুন যুগের সূচনা।