• ‘স্ত্রী সেবাদাসী নয়, বিবাহ চাকরির চুক্তি না’, খোরপোশে সায় দিয়ে স্বামীকে ভর্ৎসনা আদালতের
    প্রতিদিন | ২৮ মে ২০২৬
  • “স্ত্রী পরিচারিকা নয়, বিবাহ চাকরির চুক্তি না।” বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় কড়া পর্যবেক্ষণ বম্বে হাই কোর্টের। স্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে বিচ্ছেদ চেয়ে মামলা করেছিলেন স্বামী। শুননিতে রীতিমতো ভর্ৎসনার সুরে দুই বিচারপতির বেঞ্চ বলল, “বিবাহিত জীবনে একজন নারীর রান্না না করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অক্ষমতাকে ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য করা যায় না। বিবাহ হল সমতার অংশীদারিত্ব।”

    ২০০২ সালে বিয়ে হয় যুগলের। ২০০২ সালে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন স্বামী। খোরপোশ দিতেও রাজি হননি তিনি। বান্দ্রার পরিবার আদালত স্বামীর যুক্তি মেনে বিবাহবিচ্ছেদের রায় দিয়েছিল। যদিও গত ৮ মে বম্বে হাই কোর্টে বিচারপতি ভারতী ডাংরে এবং বিচারপতি মঞ্জুষা দেশপাণ্ডের বেঞ্চ পরিবার আদালতের রায় খারিজ করে। বিচ্ছদের দাবিতে স্বামীর ‘নিষ্ঠুরতা’ যুক্তি বাঞ্চাল করেন দুই বিচারপতি। তাঁদের পর্যবেক্ষণ, “বিবাহ হল সমতার অংশীদারিত্ব। এটি কোনও সেবা চুক্তি বা চাকরির চুক্তি না। স্ত্রীকে সেবাদাসী ভাবা উচিত নয়।” রান্না করা বা বাড়ি পরিষ্কার করা তাঁদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

    হাইকোর্ট উল্লেখ করেছে, পারিবারিক আদালত শুধুমাত্র একটি ‘শিল্প ও কারুশিল্প’ ক্লাসের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করার কারণে মহিলাকে ভরণপোষণ দেওয়ার বিষয়টি খারিজ করেছিল। অথচ, এমন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই যা থেকে প্রমাণ হয় এই বিষয়টি স্ত্রীর জন্য নিয়মিত এবং উল্লেখযোগ্য স্বাধীন আয়ের উৎস হয়ে উঠেছিল। হাইকোর্ট এই মর্মে যুক্তি দেখিয়েছে যে, স্বামী একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ)। তাঁর পেশাগত যোগ্যতা রয়েছে এবং তিনি তাঁর স্ত্রীর খরচ বহন করতে সম্পূর্ণরূপে সক্ষম। এই অবস্থায় আদালত নির্দেশ দিয়েছে, স্ত্রীকে মাসিক ভরণপোষণ ভাতা হিসেবে ১০,০০০ টাকা এবং বাসস্থানের জন্য প্রতি মাসে আলাদাভাবে আরও ১০,০০০ টাকা প্রদান করবেন স্বামী। এই শর্তেই বিবাহ বিচ্ছেদ হতে পারে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)