কীভাবে তৈরি হবে দুর্গাঠাকুর? মাটি-সংকট কাটাতে এবার মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীদের
প্রতিদিন | ২৮ মে ২০২৬
দুর্গাপুজোর বাকি মাত্র চার-সাড়ে চার মাস। তার আগে এঁটেল মাটির জোগানে টান। ফলে উদ্বিগ্ন কুমোরটুলির শিল্পীরা। সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালে প্রকাশিত হয় সে খবর। এবার সমস্যা সমাধানের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি ক্যানেল ইস্ট রোড মৃৎশিল্পী সমিতির।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘রায়চক, জীবনতলা ও ডায়মন্ড হারবার থেকে এঁটেল মাটি কাটা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। তার ফলে প্রয়োজনীয় মাটি সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তার ফলে প্রতিমা নির্মাণ ব্যাহত হচ্ছে। বহু শিল্পী ও শ্রমিক আর্থিক সংকটের মুখে পড়ছেন।’ সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন মৃৎশিল্পীরা।
উল্লেখ্য, কলকাতা ও আশপাশের এলাকার বহু পুজো কমিটি কয়েক দশক ধরে কুমোরটুলি থেকে প্রতিমা নিয়ে যায়। অনেক আগে থেকে বায়নাও হয়ে যায়। জানুয়ারি মাস থেকে শিল্পীদের ঘরে প্রতিমা তৈরির কাজও চলে। গত কয়েক বছরে দুর্গাপুজোর সংখ্যাও অনেক বেড়েছে বলে খবর। প্রতিমা তৈরির চাপও থাকে কুমোরটুলিতে। কেবল কলকাতার শিল্পীরাই নয়, জেলা থেকেও বহু শিল্পী এই কয়েক মাস কাজ করতে কুমোরটুলিতে আসেন। সকাল থেকেই কেউ ব্যস্ত থাকেন মাটি মাখতে। কেউ আবার প্রতিমার গায়ে মাটির প্রলেপ দেন। বর্ষার আগেই অনেকটা কাজ এগিয়ে রাখেন বহু শিল্পী। টার্গেট অনুযায়ী কাজও শুরু হয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ করেই এবার মাটি আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। শিল্পী সুবল পাল বলেন, “এই মাটি না এলে কোনওভাবেই পুজো কমিটির হাতে প্রতিমা তুলে দিতে পারব না।” শিল্পী নবকুমার পাল আবার সময় বেঁধে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ৭-১০ দিনের মধ্যে মাটির সমস্যা না কাটলে প্রবল সমস্যা দেখা দেবে। প্রতিমা ঠিক সময়ে মণ্ডপে পাঠানো যাবে না।
বড় শিল্পীদের ঘরে মাটি মজুত থাকে। সেই মাটিতে প্রতিমা তৈরির কাজ হয়। তবে সেই মাটিতেও টান দেখা দিয়েছে। এদিকে ছোট শিল্পীদের অনেকের ঘরেই কাজের জন্য মাটি নেই! অনেক শিল্পীই আবার আর্থিক সমস্যার মুখে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। কারণ, অনেক শিল্পীর ঘরেই বাইরে থেকে কর্মী-শিল্পীরা মজুরি ভিত্তিতে কাজ করেন। দৈনিক মজুরিও তাঁদের দিতে হয়। কাজ না থাকলে তাঁরা অন্য জায়গায় কাজের জন্য চলে যেতে পারে! তখন মাটি এলেও প্রতিমা শিল্পী না থাকলে সমস্যা দেখা দেবে। এমনই বলছেন অনেকে। কর্মীদের ধরে রাখতে পকেট থেকে টাকাও গুণতে হচ্ছে অনেককে। আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ। শিল্পীরা আশা করছেন, রাজ্য সরকার এই সমস্যার আশু সমাধান করবে। করোনা অতিমারির সময়ও প্রতিমা কীভাবে হবে? পুজো কীভাবে হবে? সেই আশঙ্কার মেঘ দেখা গিয়েছিল। যদিও সেবারও বিধিনিষেধের মধ্যে পুজো হয়েছিল। এবারও বাধা কেটে আশ্বিনের শারদপ্রাতে মহা ধুমধামে দেবীর আরাধনা হবে। এমনই মনে করছেন শিল্পীরা।