একের পর এক মুখ খুলছেন বিক্ষুব্ধরা! রবিবার দলের বিধায়কদের ফের কালীঘাটে ডাকলেন মমতা
প্রতিদিন | ২৮ মে ২০২৬
কঠিন পরিস্থিতি দলের। একের পর এক মুখ খুলছেন নেতানেত্রীরা। এই আবহে রণকৌশল সাজাতে রবিবার ফের একবার দলের বিধায়কদের কালীঘাটের বাড়িতে ডাকলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের বিধায়কদের তিনি কী বার্তা দেন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন নেতৃত্ব। ইতিমধ্য়েই বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকেও হাজির হয়েছিলেন। এই নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়ও। এছাড়াও বিভিন্ন পুরসভায় গণ ইস্তফা দিচ্ছেন কাউন্সিলররা।
ছাব্বিশের নির্বাচনে রাজ্যের একাধিক আসনে ভোট লুট হয়েছে এই অভিযোগে মামলা করতে চলছে তৃণমূল কংগ্রেস। এরকম ৫০টি কেন্দ্রে ভোট লুটের অভিযোগের ‘তথ্য’ জোগাড় করে মামলার প্রস্তুতি শুরু করেছে দল। যদিও জানা গিয়েছে, পরাজিত প্রার্থীরাই মামলা করতে রাজি হচ্ছে না। নেতৃত্বকে তাঁরা ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিজেপি যেখানে সরকার গড়ে ফেলেছে, সেখানে মামলায় নেমে যদি জয়ও আসে, তাতেই বা আর কী লাভ? তৃণমূল তো আবার সরকারে চলে আসবে না! এই আবহে পরাজিত প্রার্থীদের বোঝানোর কাজ করছে শীর্ষ নেতৃত্ব।
নির্বাচনে পরাজয়ের পর কালীঘাটের বাড়িতে একাধিক বৈঠক করেন তৃণমূল নেত্রী। এর আগেও দলের বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেছেন মমতা। পাশাপাশি পরাজিত প্রার্থীদের নিয়েও বৈঠক করেন তিনি। এছাড়াও কলকাতা সহ একাধিক পুরসভা ও পুরনিগমের মেয়র, পুরপ্রধান, কাউন্সিলদের নিয়েও বৈঠক করেছেন তিনি। মূলত দলের কঠিন পরিস্থিতিতে রণকৌশল ঠিক করে দিচ্ছেন মমতা।
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের নির্বাচনে ৮০টি আসনে জয়লাভ করেছে তৃণমূল। রাজ্য সরকারের ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে ইতিমধ্যেই একাধিক তৃণমূল বিধায়ক উপস্থিত থেকেছেন। গতকালই কল্যাণীতে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির হয়েছিলেন বিরোধী বিধায়করা। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকেও ১৩ জন বিধায়ক হাজির হয়েছিলেন। তাঁরা রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সহযোগিতার বার্তা দিয়েছে। এই আবহে দলের বিধায়কদের কালীঘাটের বাড়িতে ডাকলেন তৃণমূলনেত্রী।