অনুপ্রবেশকারীদের রাখার জন্য দক্ষিণ দিনাজপুরে তৈরি হয়েছে জেলার প্রথম হোল্ডিং সেন্টার। জেলার তপন ব্লকের রামপুরের কর্মতীর্থ ভবনকে বেছে নেওয়া হয়েছে এই কাজের জন্য। মঙ্গলবার দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই ঘোষণা করা হয়েছিল। তারপরেই শুরু হয়েছে পরিকাঠামো প্রস্তুতির কাজ। কর্মতীর্থের ভিতরে থাকা ধানের বস্তা-সহ বিভিন্ন সামগ্রী সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নজরদারির জন্য বসানো হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা। বিদ্যুৎ ও অন্য পরিষেবা কতটা কী রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে প্রশাসনের তরফে।
এখনও পর্যন্ত কোনও অনুপ্রবেশকারীকে সেখানে রাখা হয়নি। প্রশাসন সূত্রে খবর, আপাতত প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা তৈরি করে রাখা হচ্ছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ওই সেন্টার ব্যবহার করা যায়।
প্রথমে বালুরঘাটের কিষাণ মান্ডিকে হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল জেলা প্রশাসনের। বড় জায়গা হওয়ায় সেখানে একসঙ্গে বহু মানুষকে রাখতে সুবিধা হতো। কিন্তু জাতীয় সড়ক থেকে কিছুটা ভিতরে হওয়ায় যাতায়াত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু সমস্যা সামনে আসে। সেই কারণেই বিকল্প হিসেবে রামপুর কর্মতীর্থকে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। আগে এখানে ধান কেনাবেচার কাজ চলত। ফলে প্রচুর ফাঁকা ধানের বস্তা ও অন্য জিনিসপত্র মজুত ছিল। সেগুলিই সরিয়ে ভবনটিকে হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক বালা সুব্রমনিয়ান টি জানিয়েছেন, রামপুর কর্মতীর্থে একসঙ্গে প্রায় ৫০-৬০ জনকে রাখার মতো পরিকাঠামো রয়েছে। প্রয়োজনে আগামী দিনে জেলার আরও জায়গায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বালুরঘাটের সাংসদ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীদের প্রথমে এই হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। পরে তাঁদের পরিচয় ও কোন দিক থেকে তাঁরা এসেছেন তা যাচাই করে তাদের সেই দিক দিয়ে পাঠানো হবে।’