গোপাল সোনকার
ক্যান্সারকে জব্দ করতে বিশ্ব জুড়ে নানা গবেষণা চলছে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান সব রকম ভাবে এই রোগকে প্রতিহত করতে লড়াই করছে। ভারতীয় গবেষকরাও পিছিয়ে নেই। ক্যান্সার নির্মূল করতে গবেষণা করছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক তথা জিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুমিতকুমার হীরা। গত ২৩ মে আইআইটি খড়্গপুর রিসার্চ পার্কে অনুষ্ঠিত হয় WAST (West Bengal Academy of Science and Technology)-এর বার্ষিক সভা। যেখানে আনুষ্ঠানিক ভাবে ফেলোশিপ সম্মান প্রদান করা হয় তাঁকে।
সুমিতকুমার হীরা জানান, বিশ্বের দরবারে ক্যান্সার ইমিউনোলজি রিসার্চের জন্য বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম যাতে উজ্জ্বল হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাবেন তিনি। ক্যান্সার নির্মূল করা, ক্যান্সার নিয়ে আরও রিসার্চ করাই লক্ষ্য।
ইতিমধ্যেই ক্যান্সার ইমিউনোলজি এবং টিউমার মাইক্রো এনভায়রনমেন্ট নিয়ে তাঁর গবেষণা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষ প্রশংসা অর্জন করেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য WAST সম্মানিত ফেলোশিপের জন্য তাঁকে মনোনীত করেছে। প্রতি বছরই বিশিষ্ট গবেষক ও বিজ্ঞানীদের ফেলোশিপ প্রদান করে WAST।
সুমিতকুমার হীরা বলেন, ‘ক্লাস সেভেন থেকেই ক্যান্সার নিয়ে কিছু করার একটা লক্ষ্য ছিল। কারণ বাবা ছিলেন ডাক্তার। বাবার কাছে ক্যান্সার নিয়ে অনেক কিছু শুনেছি। সেই থেকেই আমার লড়াইটা শুরু।’ ২০১৪ সাল পর্যন্ত বেনারস ইউনিভার্সিটি থেকে ব্লাড ক্যান্সার নিয়ে কাজ করেন।
এর পরে ২০১৫ সালে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। তার পরে একটি ল্যাব তৈরি করে ক্যান্সার ইমিউনোলজি নিয়ে ১১ বছর কাজ করেন। কাজ করেছেন ডেনড্রাইটিক সেল থেরাপি নিয়ে। টিউমার বিরোধী টি-কোষ সক্রিয়করণে এই থেরাপি যথেষ্ট কার্যকর হয়েছে বলেও দাবি ড. হীরার।
ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের টি-কোষের কার্যকারিতা কমে যায়। গবেষণায় ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন মলিকিউলার চিহ্নিত করা হয়েছে। কোলন ক্যান্সার নিয়েই গবেষণায় জোর দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।