জমি নিয়েও ফ্ল্যাট দেননি জয় কামদার, সোনা পাপ্পুরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ গিয়ে এমনই অভিযোগ করেছিলেন ভবানীপুরের বৃদ্ধ প্রবীর মুখোপাধ্যায়। আরও অভিযোগ, সেই ফ্ল্যাট দেওয়া হয়েছিল পুলিশ অফিসার রাজকুমার সিংকে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘অ্যাকশন’ নিল ইডি। বুধবার প্রবীরের বাড়ি গিয়ে তাঁর বয়ান রেকর্ড করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে সেই ফ্ল্যাটের নথিপত্র নিয়ে এ দিন সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছেন রাজকুমারের মেয়ে মেনকা সিংও।
৮১ বছর বয়সি বৃদ্ধ প্রবীরের অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন জয় কামদার। নিজের পৈতৃক জমি তুলে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে প্রমোটারি করলেও তাঁকে কোনও ফ্ল্যাট দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ প্রবীরের। উল্টে তাঁর সঙ্গে ১৭ লক্ষ টাকা চাওয়া হয় বলেও দাবি তাঁর। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে একটা ভাড়া বাড়িতে থাকেন প্রবীর। এ দিন সেখানেই গিয়েছিলেন ইডি-র আধিকারিকরা। তাঁদের পুরো ঘটনা খুলে বলেন তিনি।
প্রবীরের ফ্ল্যাট পুলিশ অফিসার রাজকুমার সিংকে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু রাজকুমারের মেয়ে মেনকা দাবি করেছিলেন, তিনি এবং তাঁর স্বামী রীতিমতো টাকা দিয়ে ফ্ল্যাটটি অগ্রিম বুকিং করে কিনেছিলেন। তবে রেজিস্ট্রি করাননি প্রোমোটার জয় কামদার। ইডি-র তদন্তকারীদের আগেই এমনটা জানিয়েছিলেন মেনকা। এ দিন সমস্ত নথি নিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা হন তিনি। তাঁর বয়ান নথিভুক্ত করেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা।
জমি জালিয়াতি, তোলাবাজি ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) গত ১৮ মে বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুকে ম্যারাথন জেরার পরে গ্রেপ্তার করেছিল ইডি। তার আগে এপ্রিলে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল জয় কামদারকেও। তাঁর বিরুদ্ধেও জমি জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণাও অভিযোগ ছিল। এই মামলায় কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকেও গ্রেপ্তার করেছে ইডি। তিন জনে মিলে জমি জালিয়াতির চক্র চালাতেন বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।
মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসে সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য ‘জনতার দরবার’-এর কথা ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু। বিজেপির তরফে জানানো হয়, প্রতি সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে থাকবেন। সেখানেই ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।