• কাটোয়া হাসপাতালে চিকিৎসার নতুন দিগন্ত! 'ল্যাপারোস্কোপিক' প্রযুক্তি ব্যবহার, খরচ বাঁচবে সাধারণ মানুষদের
    News18 বাংলা | ২৮ মে ২০২৬
  • : চার জেলার ভরসার অন্যতম চিকিৎসা কেন্দ্র কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে এবার শুরু হল অত্যাধুনিক ‘ল্যাপারোস্কোপিক’ অস্ত্রোপচার পরিষেবা। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে প্রথমবার সফলভাবে ল্যাপারোস্কোপ যন্ত্রের সাহায্যে গলব্লাডারের অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। অস্ত্রোপচার হওয়া রোগী গৌতম সাহা, বাড়ি কেতুগ্রামের কান্দরা এলাকায়। পেশায় তিনি টোটোচালক। কিছুদিন আগে তাঁর গলব্লাডারে পাথর ধরা পড়ে। চিকিৎসক সুব্রত হালদারের পরামর্শে তাঁকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই অত্যাধুনিক ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে তাঁর সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

    রোগীর স্ত্রী সোমা সাহা জানান, “বেসরকারি হাসপাতালে এই ধরনের অপারেশন করানোর মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। সরকারি হাসপাতালে এত উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে, তা আগে জানতাম না। খুব কম খরচে ভাল চিকিৎসা পেয়েছি।” অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক সুব্রত হালদার বলেন, “ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার অত্যন্ত নিখুঁতভাবে করা সম্ভব। স্ক্রিনের মাধ্যমে শরীরের ভিতরের অংশ স্পষ্ট দেখা যায়। এই প্রযুক্তির সাহায্যে ভবিষ্যতে আরও জটিল অস্ত্রোপচারও করা যাবে।”

    হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল জানান, অপারেশন থিয়েটারে নতুন করে ‘ল্যাপারোস্কোপ’ যন্ত্র বসানো হয়েছে এবং পরিকাঠামোও উন্নত করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে।চিকিৎসকদের মতে, ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে শরীরে বড় করে কাটা লাগে না। ছোট ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে ক্যামেরা ও বিশেষ যন্ত্র ঢুকিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। ফলে রক্তপাত কম হয়, সংক্রমণের আশঙ্কাও কম থাকে। রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। শরীরে ক্ষতের দাগও তুলনামূলকভাবে ছোট থাকে। বর্তমানে হার্নিয়া, গলব্লাডার, পিত্তথলির পাথর, টিউমার-সহ একাধিক অস্ত্রোপচারে এই পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে ক্যানসারের ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

    বেসরকারি নার্সিংহোমে এই ধরনের অস্ত্রোপচারে মোটা অঙ্কের খরচ হয়। ফলে গ্রামাঞ্চলের বহু নিম্নবিত্ত পরিবারের পক্ষে এমন চিকিৎসা করান কঠিন হয়ে পড়ে। সেই জায়গা থেকেই কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে এই পরিষেবা চালু হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন স্থানীয় মানুষজন। পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলার একাংশের মানুষ চিকিৎসার জন্য কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। প্রতি মাসে এখানে গড়ে ৫০ থেকে ৮০টি বড় ধরনের অস্ত্রোপচার হয়। হাসপাতালে বর্তমানে তিনজন শল্যচিকিৎসক রয়েছেন। এছাড়াও মুমূর্ষু রোগীদের জন্য এইচডিইউ বিভাগ চালু হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় হাজারের কাছাকাছি রোগী হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসেন।
  • Link to this news (News18 বাংলা)