এই সময়, আসানসোল: কোথাও রাস্তা, কোথাও ফুটপাথ দখল করে বছরের পর বছর বেআইনি পার্কিংয়ের ব্যবসা চালিয়ে আসা হয়েছে। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই আসানসোল পুর এলাকায় অবৈধ পার্কিং বন্ধ করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন অগ্নিমিত্রা পাল। সেই নির্দেশ পেয়েই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে আসানসোল বাজার অঞ্চলে সবকটি পার্কিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার পুরসভার ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের লছিপুরে পুলিশ বন্ধ করে দিল আরও একটি অবৈধ পার্কিং। এ দিন আসানসোল–দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনারেটের ডিসিপি (ট্র্যাফিক) জিভি সতীশ নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এই পার্কিংগুলিতে গাড়ি পিছু টাকা আদায় করা হলেও পুরসভায় জমা হচ্ছিল না। একাংশের তৃণমূল কাউন্সিলারের মদতে একটি দালালচক্র শহর জুড়ে এই অবৈধ পার্কিং চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, পুলিশ–প্রশাসন সেই কাউন্সিলারদেরও খোঁজ করছে। আসানসোল পুর এলাকায় পার্কিং জ়োনের বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পুর কর্তৃপক্ষের কাছে চেয়ে পাঠিয়েছিল পুলিশ। সেই রিপোর্ট পেয়েই অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পুরসভার পার্কিং দপ্তরের মেয়র পারিষদ তথা ডেপুটি মেয়র ওয়াসিমুল হক বুধবার শুধু এটুকুই বলেন যে, ‘আমরা যাবতীয় তথ্য পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।’ কী সেই তথ্য? পুলিশকে পাঠানো রিপোর্টে জানানো হয়েছে, আসানসোল পুরসভার অধীনে প্রায় ৩৬টি পার্কিং জ়োন রয়েছে। এর মধ্যে নিয়ম মেনে ১২টির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে টেন্ডার ডেকে। বাকি ২৪টি পার্কিং জ়োনের বিষয়ে কোনও তথ্য নেই। অভিযোগ, মাথায় তৃণমূল নেতাদের হাত থাকায় সেগুলি বন্ধ করার কোনও উদ্যোগ কখনও নেওয়া হয়নি।
এর পাশাপাশি রানিগঞ্জের পাঞ্জাবি মোড় থেকে স্টেশন যাওয়ার রাস্তায় যাতায়াত মসৃণ করতেও তৎপর হয়েছে পুলিশ। যেখানে সেখানে মিনিবাস ও টোটো দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো–নামানোর কারণে এই রাস্তায় যানজট লেগেই থাকে। মঙ্গলবার রানিগঞ্জের এনএসবি রোডে মাইক হাতে এ নিয়ে প্রচার চালাতে দেখা যায় ট্র্যাফিক পুলিশকে।
মাইকে বলা হয়, ‘এনএসবি রোডের উপরে যেখানে সেখানে বাস বা টোটো দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করিয়ে যানজট সৃষ্টি করবেন না। এই নির্দেশ অমান্য করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব বাসযাত্রী শুধুমাত্র রানিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডেই ওঠানামা করবেন।’ একইসঙ্গে এতোয়ারি মোড়, সিআর ক্রসিং, পাঞ্জাবি মোড় ও জগন্নাথ ব্রিজে টোটো দাঁড় করানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশ এ দিন মাইকে আরও বলে, জগন্নাথ ব্রিজ, পোস্ট অফিসের সামনে, সম্পূর্ণ এনএসবি রোড, সিআর রোড, বড়বাজার শিবমন্দির রোড এবং রাজবাড়ি মোড় এলাকায় ফুটপাথ দখল করা সম্পূর্ণ বেআইনি।