এই সময়, বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদে বিগত ১৫ বছর ধরে কয়েকশো কোটি টাকার দুর্নীতি ও প্রতারণা হয়েছে— এই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সরব হলো বিজেপি। বুধবার সকালে জেলা পরিষদে গিয়ে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলাশাসক (এডিএম) অভিজিৎ সেনের হাতে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য ও নথিপত্র তুলে দেন বিজেপি নেতৃত্ব। এই ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ দিন বিজেপি বর্ধমান সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি অভিজিৎ তা, কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি স্মৃতিকণা বসু এবং ভাতারের বিধায়ক সৌমেন কার্ফার নেতৃত্বে বিজেপির একটি প্রতিনিধিদল জেলা পরিষদে আসে।
জেলা পরিষদে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করে অভিজিৎ তা বলেন, ‘জেলা পরিষদের কোনও জনপ্রতিনিধি আসছেন না। কারণ তাঁরা জনপ্রতিনিধি ছিলেন না, ছিলেন চোর প্রতিনিধি। চুরি করে ওঁরা ক্ষমতায় এসেছিলেন। তাই এখন নিজেরাই লজ্জায় আসছেন না।’
প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ধরন ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, ‘জেলা পরিষদ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হয়েছে। আমাদের আভ্যন্তরীণ তদন্তে আমরা তার হদিশ পেয়েছি। এখানে অনেকেই দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের ধরলেই কোন নেতার নির্দেশে দুর্নীতি করেছিলেন, সেটা বেরিয়ে আসবে। কাজের ক্ষেত্রে তিন রকমের দুর্নীতি হয়েছে— কাজের গুণগত মান খারাপ, বিল বেশি করার প্রবণতা এবং একই কাজকে দু’বার তিন বার দেখিয়ে বিল করা। এই বিল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাস্তার ক্ষেত্রে করা হয়েছে।’ বর্তমান এডিএমের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তিনি জানান, রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছেন। আমরা আমাদের মতো করে অনুসন্ধান করছি। সেই রিপোর্ট জেলা পরিষদের এডিএমকে তুলে দেবো। আশা করি, সব দুর্নীতির উৎপাটন হবে এবং চোরেরা জেলে যাবে।’
ভাতারের বিধায়ক সৌমেন কার্ফার অভিযোগ, ‘প্রাক্তন এডিএমের নেতৃত্বে জেলা পরিষদে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। বর্তমান সহকারী সভাধিপতির গাড়ির চালক এখানে গাড়ির সিন্ডিকেট চালান। প্রাক্তন এডিএম জেলা পরিষদের অফিশিয়াল ফোন নম্বর নিজের নামে ট্রান্সফার করিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছেন। ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সেই নম্বর তিনি বন্ধও করে দিয়েছেন। জেলা পরিষদের অঙ্গীকার হল সংস্কার করতে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা খরচ হয়েছে যা বাস্তবসম্মত নয়। ছোট্ট একটা হল সংস্কার করতে এত টাকা খরচা হয়?’