বাদুড়িয়ায় পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের পরে এ বার গ্রেপ্তার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ অজিত সাহা। গোবরডাঙার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অজিত সাহার সঙ্গেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর ভাই সুজিত সাহাকেও। তাঁদের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই বাড়ি থেকে নগদ প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। সেই সঙ্গেই উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলি।
সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যানকে। এর পরেই তাঁর বাড়ির পাশের কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার থেকে উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা। পরে তল্লাশি অভিযান চালানো হয় একটি পাটক্ষেতে। সেখানে মাটি খুঁড়ে বেশ কয়েকটি বস্তা এবং ট্রলিব্যাগ পাওয়া যায়। সূত্রের খবর, ওই বস্তা এবং ব্যাগ থেকে পাওয়া গিয়েছে প্রায় ২ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা।
এর পরেই অভিযান চালানো হয় মছলন্দপুরের দাপুটে তৃণমূল নেতা অজিত সাহা এবং তাঁর ভাইয়ের বাড়িতে সুজিত সাহার বাড়িতে। অজিত সাহা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৪ তারিখ তাঁদের বিরুদ্ধে গোবরডাঙা থানায় দু'টি অভিযোগ দায়ের করা হয়। তোলাবাজি ও হুমকি দেওয়া এবং ২১-র ভোট পরবর্তী হিংসার কিছু অভিযোগ ছিল এই দু'জনের বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁদের।
সূত্রের খবর, তাঁর বাড়ি থেকে প্রচুর পরিমাণে ৭ এমএম পিস্তলের গুলি, ৬০ রাউন্ড খালি কার্তুজের খোল ছাড়াও একটি সেভেন এমএম পিস্তল ও একটি এয়ার পিস্তলও উদ্ধার হয়। এই পাশাপাশি নগদ প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে পুলিশ সূত্রে খবর। সুজিতের বাড়ি থেকে ৫২ বোতল বিদেশি মদও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বুধবার ওই দুজনকে তোলা হয় বারাসত আদালতে। তাঁদের সাত দিনে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পুলিশ হেফাজতে নিয়ে তাঁদের আরও জেরা করতে চাইছে পুলিশ। এত টাকা কী ভাবে এসেছে তা জানতে চাইছে পুলিশ।
যদিও অভিযুক্তদের দাবি, মিথ্যা মামলা সাজিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁদের। উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থও ব্যাঙ্ক থেকে আইন মেনেই তোলা হয়েছিল বলে তাঁদের দাবি।