এই সময়: দু’মাস মহড়ার পরে শেষ পর্যন্ত রেল বোর্ড দেশের প্রথম হাইড্রোজেন–চালিত ট্রেনে বাণিজ্যিক ভাবে যাত্রী পরিবহণের অনুমোদন দিল। গত ২২ মে রেল বোর্ড রিসার্চ ডিজ়াইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অর্গানাইজ়েশন (আরডিএসও) এবং নর্দার্ন রেলকে চিঠি পাঠিয়ে অনুমোদনের বিষয়টি জানিয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, হরিয়ানার ঝিন্দ–শোনপথ রুটে ১০ কোচের হাইড্রোজেন ট্রেন চলতে পারবে। ট্রেনটি সর্বোচ্চ ৭৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিতে চলবে। তবে এখনও কিছু যাচাই–পর্ব বাকি। তার পরেই শুরু হবে যাত্রী পরিবহণ।
রেলের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মার্চে ট্রেনটির ‘অসিলেশন ট্রায়াল রান’ সম্পন্ন হয়েছে। এই মহড়ার দায়িত্বে ছিলেন আরডিএসও–র ইঞ্জিনিয়াররা। পূর্ণ গতিতে চলার সময়ে ট্রেন পাশাপাশি কতটা দুলতে পারে, তারই পরীক্ষা করা হয় এই মহড়ায়। রেল জানাচ্ছে, এই ট্রেনটিই বর্তমানে বিশ্বের দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন–চালিত ব্রডগেজ ট্রেন। এর ইঞ্জিন ২৪০০ কিলোওয়াট ক্ষমতা–সম্পন্ন। আসলে এই ট্রেনে দু’টি ১২০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ড্রাইভিং পাওয়ার কার (ডিপিসি) থাকছে। যার মোট চালিকাশক্তি ২৪০০ কিলোওয়াট। সঙ্গে থাকছে আটটি যাত্রিবাহী কোচ।
ট্রেন চলবে ডিস্ট্রিবিউটেড পাওয়ার রোলিং স্টক (ডিপিআরএস) প্রযুক্তিতে। এই প্রযুক্তিতে শক্তি একটিমাত্র লোকোমোটিভে কেন্দ্রীভূত না থেকে গোটা ট্রেন জুড়ে ভাগ করে দেওয়া থাকে। এখানে ডিজেল বা বিদ্যুৎচালিত ট্র্যাকশনের বদলে শক্তি উৎপাদনের জন্যে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ব্যবহার করা হবে। এই কারণেই এই ধরনের ইঞ্জিনের কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন শূন্য। জলীয় বাষ্পই একমাত্র অবশেষ।
এই ট্রেনের বাণিজ্যিক পরিষেবা চালু হলে জার্মানি, সুইডেন, জাপান এবং চিনের পরে হাইড্রোজেন–চালিত ট্রেন পরিচালনাকারী দেশের তালিকায় পঞ্চম হিসেবে নাম তুলে ফেলবে ভারত। রেলের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, অনুমোদন মিললেও এখনই ওই রুটে যাত্রী পরিবহণ শুরু হচ্ছে না।
কারণ, এখনও বেশ কিছু যাচাই–পর্ব বাকি। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজ়েশন’ (পেসো)–এর শংসাপত্র ও একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা শংসাপত্র ও পরিদর্শন সংস্থার নির্ধারিত শর্তাবলির কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট।
রেল মন্ত্রক জানিয়েছে, হরিয়ানার ঝিন্দে হাইড্রোজেন জেনারেশন ইউনিট থেকে হাইড্রোজেন স্টোরেজ সিস্টেমে কমপ্রেসড হাইড্রোজেন গ্যাস (সিএইচজি) ভরাট ও সংরক্ষণের জন্যে যে ধরনের গাড়ি ব্যবহার করা হবে, ‘পেসো’ তার অনুমোদন দিয়েছে। তবে, অত্যন্ত দাহ্য হওয়ার কারণে হাইড্রোজেন গ্যাস ব্যবহারে ঝুঁকি খুব বেশি। তাই পুরো ব্যবস্থা ফুল–প্রুফ করতে চাইছে রেল। তার পরেই শুরু হবে যাত্রী পরিবহণ।