রূপক মজুমদার, বর্ধমান
বর্ধমান শহরের ৩৫টি ওয়ার্ডেই বহু দিন ধরে অবাধে হয়েছে পুকুর বোজানোর কাজ। বেশ কিছু ক্ষেত্রে পুরপ্রধান পরেশচন্দ্র সরকার এলাকায় গিয়ে পুকুর বোজানো বন্ধ করে কাগজপত্র নিয়ে পুরসভায় দেখা করতে বলেছেন। ক্িন্তু তাতেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। কোনও এক অদ্ভুত কারণে পুকুর বোজানোর কাজ কিন্তু থামেনি!
রাধানগর পাড়ার বাসিন্দা শান্ত সাহা বলছিলেন, ‘আমাদের এখানে একটি হোটেলের পার্কিংয়ের জায়গা করার জন্য পুকুরের পাড় বোজানো হচ্ছিল। আমরাই পুরসভায় খবরটি জানাই। লোকজন, সাংবাদিকদের নিয়ে পুরপ্রধান এলেন। তার পরে দশ দিন কাজ বন্ধ ছিল। হঠাৎ করে কী যে হলো, রাতারাতি জেসিবি মেশিন নামিয়ে এলাকা দখল হয়ে গেল। এখন সেখানে রমরমিয়ে গাড়ি পার্কিং নয়। হোটেলের মালিক অন্য ব্যবসাও শুরু করেছেন। নতুন বিধায়ককে বিষয়টি জানিয়েছি। দেখা যাক, উনি কী করেন!’
এমন অভিযোগ শহরের সব ওয়ার্ডেই শোনা যাচ্ছে। অনেক জায়গায় পুকুর বুজিয়ে তার উপরে ফ্ল্যাটও ৈতরি হয়ে গিয়েছে। পুরসভা থেকে কোনও বিল্ডিংয়ের প্ল্যানও নেওয়া হয়নি। সদরঘাট এলাকার বাসিন্দা অমর সর্দারের বক্তব্য, ‘আমাদের এলাকায় দু’টি এমন ফ্ল্যাট তৈরি হয়েছে, যেখানে না–আছে বিল্ডিং তৈরির জন্য পুরসভার কোনও অনুমতি, না–প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। যিনি কাউন্সিলার, তিনিই আবার প্রোমোটার। জোর করে সব তৈরি করেছে। এখন রাজ্যে পালাবদলের পরে সবাই ভয় পেয়ে গিয়েছে, এ বার কী হবে।’
বর্ধমান দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র পুকুর বোজানোর খবর পেয়ে গত শুক্রবার ছুটে গিয়েছিলেন শহরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের শিবতলা এলাকায়। তিনি নিজেও অবাক হয়ে যান পুকুর বোজানের ধরন দেখে। তিনি বলেন, ‘আমাকে বহু মানুষ জানিয়েছেন, কী ভাবে শহরের জলাশয়, পুকুর ভরাট করা হয়েছে। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের শিবতলা এলাকায় গিয়ে দেখেছি, দু’টি পুকুরে জঞ্জাল ফেলে তা বোজানো হচ্ছে। এমন পরিকল্পনাও যে হতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারিনি। কিন্তু এ বার আর এগুলি রেয়াত করা হবে না। পুরসভার সঙ্গে আমি বৈঠক করব।’
সেখানেই না–থেমে বিজেপি বিধায়ক স্পষ্ট করে দেন, ‘যাঁরা পুকুর বুঝিয়ে কিছু তৈরি করেছেন, হয় সেগুলি ভেঙে ফের পুকুর তৈরি করতে হবে। না–হলে যতটা জায়গা জুড়ে পুকুর ছিল, আইন মেনে নিকটবর্তী এলাকায় সেই জায়গায় পুকুর তৈরি করে দিতে হবে নিজের খরচে। আমরা কাউকে ছাড়ব না। মানুষ অনেক আশা নিয়ে আমাদের ক্ষমতায় এনেছেন। সিস্টেমের বদল হবেই।’