এই সময়, কলকাতা ও আসানসোল: ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে যে সব নির্মাণ রয়েছে, তার 'এলিভেশন কপি' চেয়ে পাঠাল কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ। পুরসভা সূত্রের দাবি, অভিষেক, তাঁর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা 'লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস' নামে বেসরকারি সংস্থার আওতাধীন সম্পত্তিরও 'এলিভেশন কপি' জমা দিতে হবে।
এর আগে হরিশ মুখার্জি রোড, কালীঘাট রোড–সহ বিশেষ করে দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে তাঁদের নামে থাকা ১৭টি সম্পত্তিতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে নোটিস পাঠিয়েছিল পুরসভা। তার ভিত্তিতে জবাব দেওয়ার জন্য অভিষেকের আইনজীবী চিঠি দিয়ে ১০ দিন সময় চেয়েছেন। বুধবার এই প্রসঙ্গে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আসানসোলে সাংবাদিকদের বলেন, 'অভিষেক ভেবেছিলেন, তিনি আইনের ঊর্ধ্বে। তাঁরা এখন ক্ষমতায় নেই। মানুষ তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর উচিত, বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে সরকারি অর্থের অপচয় না করে চিহ্নিত বেআইনি সম্পদগুলো নিজেদেরই ভেঙে ফেলা।'
পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের একাধিক আধিকারিক জানান, 'এলিভেশন কপি' হলো কোনও বাড়ি নির্মাণের সময়ে যে নকশা স্কেচ করে জমা দেওয়া হয়, তার কপি। ওই কপি মিলিয়েই দেখা হয়, অনুমোদন নেওয়ার পরে কী কী পরিবর্তন নির্মাণ কাঠামোয় করা হয়েছে। গরমিল পেলে সংশ্লিষ্ট নির্মাণের বেআইনি অংশ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোনও ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং রুলসের ৪০০(১) ধারায় বেআইনি নির্মাণের নোটিস দেওয়া হলে, তার ক্ষেত্রে 'এলিভেশন কপি' খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এ দিন আসানসোলের রামকৃষ্ণ মিশনে স্বামী বিবেকানন্দ ছাত্রবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ছিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানে তিনি বলেন, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অবৈধ নির্মাণ নিয়ে নোটিস দেওয়া হয়েছে। তিনি ১০ দিন সময় চেয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে তাঁরা কী জবাব দেন তা দেখে, পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।'
কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবারও তিলজলার গোলাম জিলানি খান রোডে চারটি বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ হয়েছে। বিল্ডিং বিভাগের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, পার্ক সার্কাস লাগোয়া দরগা রোডে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও কসবার তৃণমূল বিধায়ক জাভেদ খানের একটি বাড়িতে ফের পুরসভার তরফে ৪০০(১) ধারায় নোটিস দেওয়া হয়েছে।