• রণক্ষেত্র বারাসত, গুরুতর আহত বিজেপির জেলা সভাপতি
    আজকাল | ২৮ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তপ্ত বারাসত। অভিযোগ, 'আদি' এবং 'নব্য' বিজেপির গোষ্ঠী সংঘর্ষে গরম হয়ে ওঠে এলাকা। গুরুতর আহত জেলা সভাপতি রাজীব পোদ্দার। ঘটনাটি ঘটেছে হৃদয়পুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়। জানা যায়, স্থানীয় একটি ক্লাবের দখলকে কেন্দ্র করে প্রথমে বিবাদ শুরু হলেও ক্রমেই তা ব্যাপক সংঘর্ষের রূপ নেয়। ঘটনায় আহত হন একাধিক বিজেপি কর্মী-সমর্থক। গুরুতর আহত হন বিজেপির বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি রাজীব পোদ্দার। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। 

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হৃদয়পুর স্টেশন সংলগ্ন বি আর অম্বেদকর স্পোর্টিং ক্লাবের দখলকে কেন্দ্র করে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরে সেই বচসা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালীন ধারাল অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। যার জেরে কয়েকজন 'নব্য' বিজেপি কর্মী গুরুতর জখম হন। তাঁদের উদ্ধার করে বারাসাত জেলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর উত্তেজিত নব্য বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা 'আদি' বিজেপি নেতা-কর্মীদের উপর চড়াও হয়। একইসঙ্গে বিজেপির বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি রাজীব পোদ্দারের বাড়িতেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। সেখানে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনার জেরে বারাসাত-টাকি রোড ও বারাসাত জেলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে রাতভর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একাধিকবার দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

    ঘটনাস্থলে যান বারাসাত পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার পুষ্পা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বারাসাতের এসডিপিও-সহ একাধিক পুলিশ আধিকারিক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তবে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, খবর পাওয়ার পরেও পুলিশ দেরিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর কারণেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং জেলা সভাপতি আক্রান্ত হন। খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছন বারাসতের বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, এই ঘটনায় কাউকেই ছাড়া হবে না। যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলার পিছনে রয়েছে। বিজেপি নেতাদের দাবি, ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণার পরে যারা বিজেপিতে যোগ দিয়েছে, তারাই এই অশান্তির মূল কারণ।

    রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসার মাত্র ২৪ দিনের মাথায় বারাসাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্রে দলের জেলা সভাপতির আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় জেলা রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে রাজ্যে পুরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনার মধ্যেই আদি ও নব্য বিজেপি কর্মীদের এই সংঘর্ষ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে।
  • Link to this news (আজকাল)