• গুজরাতে জল সংকট ঘিরে বিশ্ব তোলপাড়, মুখ পুড়ছে ভারতের
    বর্তমান | ২৮ মে ২০২৬
  • আমেদাবাদ ও ইন্দোর: অন্তত ৪৫ ফুট গভীর কুয়ো। কিন্তু নীচে জল বলতে কিছু নেই। কুয়োর দেওয়াল ধরে কোনোমতে নীচে নামছেন এক মহিলা। নীচে নেমে মাটি খুঁড়লে মিলবে পানীয় জল। তীব্র গরমে এমনই ছবি গুজরাতের ভালসাদের। সরকারের দাবি, প্রতিটি বাড়িতে পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদিও ভালসাদের বেরাসতা ফালিয়া জনপদের ছবি বলে দিচ্ছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্যের এই জলসংকটের খবর দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছে বিদেশেও। ঝুঁকি নিয়ে মহিলাদের কুয়োয় জল সংগ্রহের খবর প্রকাশিত হয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে। যার জেরে মুখ পুড়ছে ভারতের।

    গত কয়েকদিন ধরেই গরমে হাঁসফাঁস করছে উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা। ৪০ ডিগ্রির উপরেই ঘোরাফেরা করছে পারদ। আর গরমের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জল সংকট। বেশি বৃষ্টিপাতের জন্য ভালসাদ জেলাকে বলা হয় ‘গুজরাতের চেরাপুঞ্জি’। এবার সেখানেও বৃষ্টির দেখা নেই। ভালসাদের কাপরাদা তালুকের মোতি পালসান গ্রামের অন্তর্গত বেরাসতা ফালিয়ায় প্রায় বারোশো মানুষের বসবাস। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, জলের সমস্যা মেটাতে ওই এলাকায় আটটি কুয়ো খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু তার একটিতেও এখন জল নেই। জলের অন্য কোনো উত্স না থাকায় কুয়োর ভিতরেই নামতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের বেশিরভাগই মহিলা। এর জন্য কেউ দড়ি ব্যবহার করছেন, কেউ আবার লোহার মই। আর যাদের সে সব নেই, তাঁরা খালি হাতেই নীচে নামছেন। একাধিক ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, মাটির ফাটলের মধ্যে যেটুকু জল রয়েছে, তা কলসিতে ভরা হচ্ছে। তবে, সেটাও যে সব মিলছে এমন নয়। এক-দু’পাত্র জলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, দেওয়াল ধরে কুয়োয় নামতে গিয়ে বেশ কয়েকজন মহিলা হাত ফসকে পড়েও গিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনকে জলসংকটের কথা বারবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।

    কাপরাদা ও ধরমপুররে মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে পানীয় জল সরবরাহের জন্য গুজরাত সরকার ৫৮৬ কোটি টাকা খরচ করে জলপ্রকল্প চালু করেছিল। ওই প্রকল্পে প্রতিটি বাড়িতে পাইপ লাইনের সাহায্যে জল পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, পাইপ লাইন থাকলেও এক বিন্দু জলও ট্যাপ দিয়ে পড়েনি। বেশিরভাগ পাইপ ও ট্যাপে ইতিমধ্যে জং ধরে গিয়েছে। ভালসাদের জেলা উন্নয়ন আধিকারিক (ডিডিও) অতিরাজ চাপলোট জানিয়েছেন, জল সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য সব আধিকারিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে জলের ট্যাঙ্কার পাঠানো হচ্ছে।

    শুধু গুজরাত নয়, তীব্র জলকষ্ট দেখা দিয়েছে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরেও। পানীয় জলের জন্য হাপিত্যেশ করে বসে থাকতে হচ্ছে শহরবাসীকে। এর প্রতিবাদে বুধবার রাজওয়াড়া এলাকায় বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেস। হাত শিবিরের অভিযোগ, জল সমস্যা মেটাতে পুরোপুরি ব্যর্থ ইন্দোর পুরনিগম। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটোয়ারি ও পুরনিগমের বিরোধী নেতা চিন্টু চৌকসির নেতৃত্বে এদিন মহিলারা মাটির কলসি ভেঙে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁরা পুরনিগমের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থানে বসেন। জিতুর অভিযোগ, শহরের ৯০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ জল দূষিত হয়ে গিয়েছে। অথচ, বিজেপি শাসিত পুরনিগম পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে পারেনি।
  • Link to this news (বর্তমান)