সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: সরকারি নির্দেশ সোয়া ১০টার মধ্যে অফিসে ঢুকতে হবে। কিন্তু সাড়ে ১১টায় এলেন ময়নাগুড়ি বিডিও অফিস ক্যাম্পাসে থাকা ব্লক প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক। কেন দেরি হল? অসুস্থ পশুকে নিয়ে আসা বাড়ির লোকজন প্রশ্ন করতেই মেজাজ হারালেন চিকিৎসক। ক্ষিপ্ত হয়ে এক ব্যক্তিকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার উত্তেজনার ছড়ায় ব্লক প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। হাসপাতালের এক কর্মী স্বীকার করে নিয়েছেন প্রায়ই দেরিতে আসেন পশু চিকিৎসক প্রহ্লাদ কুণ্ডু।
সকাল ৯টা থেকেই অসুস্থ পশু নিয়ে প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন ময়নাগুড়ির বিভিন্ন প্রান্তের লোকজন। সাড়ে ১০টা পেরিয়ে গেলেও ডাক্তারবাবুর দেখা না পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ জমতে থাকে। যদিও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন গ্রুপ-ডি মহিলা কর্মী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আউটডোরে এসে বসেছিলেন। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ পশু চিকিৎসক হেলতে-দুলতে আসেন। সাংবাদিকদের দেখে তিনি চটে যান। বচসায় জড়ান সাংবাদিক সহ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পশু নিয়ে আসা লোকজনের সঙ্গে। হইহট্টগোলের খবর পেয়ে বিডিও সৌমেন দাস খবর পাঠান ব্লক লাইফস্টক ডেভেলপমেন্ট অফিসারকে।
বিএলডিও কুন্দ মুর্মু বলেন, যেটা হয়েছে শুনতে পারলাম সেটা নিন্দনীয়। আমি কথা বলব ওই চিকিৎসকের সঙ্গে। এদিকে, অসুস্থ পশুকে স্বাস্থ্যকেন্দ্র নিয়ে এসেছিলেন গোপাল সাহা। তাঁর অভিযোগ, চিকিৎসক প্রায়ই দেরি করে আসেন। এর আগেও কয়েকবার ছাগল নিয়ে এসেছিলাম। উনি দেরিতে আসার কারণে একটি ছাগল চিকিৎসার অভাবে মারা গিয়েছিল। এদিনও ছাগল নিয়ে আসি। দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলেও চিকিৎসা না করিয়েই ফিরতে হল। ওষুধ নিতে আসা মিলন দাস বলেন, ডাক্তার এভাবেই দেরি করে আসেন। এদিন দেরির কারণ জানতে চাইলে উনি আমাকে ধাক্কা মারেন। বিডিও’কে বিষয়টি জানিয়েছি।
যদিও অভিযুক্ত চিকিৎসক এসব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে চাননি। এদিকে, হাসপাতালে আসা লোকজন চিকিৎসকের বদলির দাবি তোলেন।
• চিকিৎসকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা স্থানীয়দের। - নিজস্ব চিত্র।