নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ায় বালির দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে। ওই দাম নিয়ন্ত্রণের দাবিতে বুধবার জেলা ভূমিদপ্তরের আধিকারিকদের কাছে লিখিত আবেদনপত্র জমা দিল বিজেপি। এদিন দুপুরে বিজেপির চার নেতানেত্রী উজ্জ্বল মণ্ডল, সোমা শতপথি, সুপ্রভাত পাত্র ও সব্যসাচী রায় জেলা ভূমিদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করে দাবিদাওয়া পেশ করেন। সব্যসাচীবাবু বলেন, গরিব মানুষ বিশেষ করে আবাস যোজনায় বাড়ি পাওয়া উপভোক্তারা ট্রাক্টরের ট্রলি হিসাবে বালি কেনেন। তাতে ১০০ সিএফটি বালি থাকে। এক ট্রাক্টর বালি কয়েকমাস আগেও তিন হাজার টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছিল। বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫-৬ হাজার টাকা হয়েছে। অবিলম্বে বালির দাম হ্রাসের দাবি আমরা এদিন জানিয়েছি।
জেলা ভূমি দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, অতিরিক্ত মুনাফার জন্য যাতে বালির দাম খাদান মালিকরা বেশি বৃদ্ধি করতে না পারেন, তা দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে বালির দাম রাখতে হবে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।
জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ায় মোট ৪৮টি বালি খাদান রয়েছে। বৈধ বালি ঘাটের বেশ কিছু বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। মালিকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, মূলধনের ঘাটতি সহ অন্যান্য কারণে ঘাটগুলি থেকে বালি উত্তোলন বন্ধ রয়েছে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন। এদিকে, বৈধ ঘাট বন্ধ থাকায় জেলায় বেআইনি বালি খাদানের রমরমা বৃদ্ধি পেয়েছে। বেআইনিভাবে উত্তোলন করা বালি মাফিয়া মদতপুষ্ট পাচারকারীরা চড়া দামে বাজারে বিক্রি করছে। বৈধ বা নিলামের মাধ্যমে লিজ নেওয়া ঘাট থেকে বালি তোলার জন্য সরকারকে রাজস্ব দিতে হয়। খাদান মালিকরা জেলা ভূমিদপ্তরের কাছ থেকে চালান কেটে বালি উত্তোলন করেন। পরে ওই বালি তাঁরা বিক্রি করেন। বিনা চালানে বালি পরিবহণ করলে জরিমানা দিতে হয়। বালিবোঝাই যানবাহনের মালিকদের কাছ থেকে ওই জরিমানা আদায় করা হয়। বেআইনি খাদানের ক্ষেত্রে মাফিয়ারা কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করে না। সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে বাজারে চড়া দামে বালি বিক্রি করতে পারলে তাদের প্রচুর টাকা মুনাফা হয়। সেই লোভেই জঙ্গলমহল সহ গোটা বাঁকুড়া জেলায় মোটা টাকায় বালি বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অবিলম্বে মাফিয়াদের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের দাবিও বিভিন্ন মহল থেকে তোলা হচ্ছে।
বাঁকুড়ার বাসিন্দা রমেশ বাউরি, প্রবীর দাস বলেন, আমরা আবাস যোজনায় বাড়ি পেয়েছি। কিন্তু, বালির দাম বেশি থাকায় বাড়ির কাজ শেষ করতে পারিনি। আমাদের জেলার নদনদী থেকে উত্তোলন করা বালি কলকাতা পর্যন্ত পরিবহণ করা হচ্ছে। অথচ নদীর পাড়ে বাড়ি হওয়া সত্ত্বেও চড়া দামে আমাদের বালি কিনতে হচ্ছে। এই বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না। শাসক দল হিসাবে বিজেপিকে বিষয়টি দেখতে হবে। তারা ভূমিদপ্তরের উপর চাপ দিলে বেআইনি বালি খাদানের রমরমা কমবে। বালির দামও নিয়ন্ত্রণে আসবে।