• মেশিন বিকল, বাঁকুড়া মেডিকেলে পাঁচ দিন এমআরআই বন্ধ, দুর্ভোগ
    বর্তমান | ২৮ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: পাঁচ দিন ধরে বন্ধ হয়ে রয়েছে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমআরআই বিভাগ। মেশিন বিকল হয়ে পড়ায় ওই বিভাগে তালা মেরে দেওয়া হয়েছে। শনিবার থেকে এমআরআই হ঩চ্ছে না বলে বিভাগের দরজার পাশে নোটিস দিয়ে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে। কবে মেশিন মেরামত হবে, তা কেউ বলতে পারেননি। এরফলে রোগীদের ভোগান্তি চরমে উঠছে। নোটিসে দেওয়া মোবাইল নম্বরে রোগীর পরিজনরা ঘন ঘন ফোন করছেন। কবে পরিষেবা পাওয়া যাবে সেব্যাপারে কর্মীরা কোনো সদুত্তর দিতে পারছেন না। রোগ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে বেশি টাকা খরচ করে অনেকে বাইরে থেকেও এমআরআই করাচ্ছেন।  

    বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেন, এমআরআই মেশিন সারানোর জন্য কলকাতা থেকে মেকানিক আনতে হয়। তাঁদের খবর দেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব মেশিন মেরামতের চেষ্টা চলছে।

    বুধবার সারেঙ্গার বাসিন্দা বিপিন সর্দার বলেন, আমার এক আত্মীয়ের এমআরআই করার প্রয়োজন ছিল। এদিন হাসপাতালে এসে জানতে পারি, মেশিন খারাপ রয়েছে। তারফলে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে। আমাদের মতো গরিব মানুষের পক্ষে বাড়ি থেকে মেডিকেল একবার যাতায়াত করা যথেষ্ট কষ্টের ব্যাপার। কাজ বন্ধ রেখে হাসপাতালের দরজায় ঘুরে বেড়ালে চরম সমস্যা হবে।  

    উল্লেখ্য, বাঁকুড়া মেডিকেলে একটি করে এমআরআই ও সিটি স্ক্যান মেশিন রয়েছে। গত এপ্রিল মাসে মোট ৯২৬ জন রোগীর এমআরআই হয়েছে। সিটি স্ক্যান করা হয়েছে ২৬০৮ জন রোগীর। দুই ক্ষেত্রে আউটডোরের রোগীর সংখ্যাই বেশি। এমআরআইয়ে এক মাসে ৬১৬ জন আউটডোর তথা বহির্বিভাগের রোগী পরিষেবা নিয়েছেন। ইনডোরে ভরতি ২৯৫জনের এমআরআই করা হয়েছে। চিকিৎসকদের অনুরোধে জরুরি বিভাগে আসা ১৫জনের এমআরআই করা হয়েছে। সিটিস্ক্যানে রোগীর সংখ্যা একটু বেশি থাকে। এক মাসে আউটডোর, ইন্ডোর ও ইমার্জেন্সি বিভাগে যথাক্রমে ১০২৪, ৬৯০ এবং ৮৯৪ জন রোগী পরিষেবা পেয়েছেন। 

    হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৩৫জনের এমআরআই ও ৯০-৯৫ জনের সিটি স্ক্যান হয়। বাইরে থেকে এমআরআই করাতে গেলে রোগীর আত্মীয়দের ৬-৮হাজার টাকা গুনতে হয়। হাসপাতালে কার্যত নিখরচায় তা হয়ে যায়। ফলে হাসপাতালের এমআরআই বা সিটি স্ক্যান মেশিন বিকল হলে গরিব রোগীদের চরম সমস্যায় পড়তে হয়। বাঁকুড়া মেডিকেলে যা রোগীর চাপ তাতে হাসপাতালে অন্তত দু’টি করে এমআরআই ও সিটি স্ক্যান মেশিন থাকা প্রয়োজন। যে দু’টি মেশিন রয়েছে সেগুলি অনেক পুরানো।  ফলে কার্ডিয়াক এমআরআই আমরা ওই মেশিনের সাহায্যে করতে পারি না। মেশিন কবে খারাপ হবে তা বলা যায় না। দু’টি করে ইউনিট থাকলে একটি বিকল হলে অন্য মেশিন দিয়ে আমরা কাজ চালিয়ে নিতে পারব। সম্প্রতি রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে বিষয়টি রাজ্যের মন্ত্রী ও জেলা প্রশাসনের কর্তাদের নজরে আনা হয়। নতুন মেশিন বসানোর জন্য জায়গা প্রস্তুত করে রেখেছি। শুধুমাত্র বরাদ্দের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)