• নিউ মার্কেটে বাইক পার্কিংয়ে নির্ধারিত রেটের ৬ গুণ! ‘সরকার বদলালেও আমাদের এটাই রেট’
    বর্তমান | ২৮ মে ২০২৬
  • স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: ‘এক ঘণ্টায় ৩০ টাকা। এক ঘণ্টার পর দু’মিনিটের বেশি হলে আরও ৩০,’  টাকা নিতে নিতে গলা উঁচিয়ে বললেন পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মী। কলকাতা পুরসভা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে নিউ মার্কেটের উল্টোদিকে শ্রীরাম আর্কেড। তার সামনে বাইক পার্কিংয়ের এটাই চার্জ। 

    সরকারে আসার পর বিজেপি বেআইনি পার্কিং নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, কড়া পদক্ষেপের বিন্দুমাত্র আঁচ পড়েনি নিউ মার্কেট থানা এলাকার এই চত্বরে। ‘এখনও এত বেশি টাকা নিচ্ছেন?’ এই প্রশ্ন করার পর পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা ওই ব্যক্তি বলেন, ‘সরকার বদলালেও এখানে এটাই রেট। বেশি কথা বলতে পারব না। এটা নিয়ে যদি কোনো অভিযোগ জানানোর থাকে, যেখানে ইচ্ছা যেতে পারেন।’ 

    সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বাইক পার্কিংয়ে কলকাতা পুরসভা নির্ধারিত সরকারি রেট হচ্ছে ঘণ্টা প্রতি ৫ টাকা। আর রাত ১০ টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত রেট ১০ টাকা। কিন্তু শ্রীরাম আর্কেডের সামনের রাস্তায় এই টাকা নেওয়া হয় পুরসভা নির্ধারিত রেটের ৬ গুণ বেশি। শুভাশিস বড়ুয়া নামে এক বাইক চালক বলেন, ‘দুপুর ২টো ৪৫ মিনিটে বাইক রেখেছিলাম। ৩টে ৫০ মিনিটে নিতে আসি। পার্কিংয়ের লোকটি বলেন, ৬০ টাকাই দিতে হবে।’ এরপর ‘এই জায়গায় সরকারি রেটের ৬ গুণ বেশি পার্কিং চার্জ দিতে হয়। তারপর মাত্র ৫ মিনিটের জন্য এক ঘণ্টার টাকা নেবেন?’ এ কথা বলে গাড়ি পার্ক করার বৈধ রসিদ চান। তাঁকে কোনো রসিদ দিতে অস্বীকার করেন ওই কর্মী।

    এই ঘটনার পর কর্মীটিকে প্রশ্ন করা হয়, এটা কি কলকাতা পুরসভার পার্কিং এরিয়া? তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ।’ তবে পুরসভা স্বীকৃত কোনো পরিচয়পত্র তাঁর কাছে নেই। কলকাতা পুরসভা যদিও জানিয়েছে, এই এলাকাটি পুরসভার পার্কিং জোন তালিকার অন্তর্ভুক্তই নয়।

    বিষয়টি সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এখানে পার্কিং এরিয়া বানিয়ে টাকা তোলা হচ্ছে। পুলিশকে অবিলম্বে এ নিয়ে তদন্ত শুরুর দাবি তুলেছে মানুষ। সকলের প্রশ্ন, শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে রোজ কীভাবে চলছে এমন বেআইনি কাজ। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। শহরের সমস্ত বেআইনি পার্কিং এরিয়া তুলে দেওয়ার কাজ চলছে। অন্যদিকে, রাজ্যে সরকার বদলের পর নিউ মার্কেটে রাস্তা আরও সরু হয়েছে বলে উঠছে অভিযোগ। জওহরলাল নেহেরু রোড থেকে হগ মার্কেটের দিকে ঢোকার রাস্তার প্রায় দুই তৃতীয়াংশ চলে গিয়েছে হকারদের দখলে। প্রবল সমস্যায় পড়েছে সাধারণ মানুষ।
  • Link to this news (বর্তমান)