নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল’...। ফুটবল বাঙালির পুরানো আবেগ। মারাদোনার দেশ আর্জেন্তিনার লক্ষ লক্ষ নীল-সাদা ভক্তও রয়েছে। বিশ্ব তারকা মেসিকে নিয়েও সেই একই উচ্ছ্বাস, আবেগ আজও অটুট। যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসির অনুষ্ঠান পণ্ড হলেও লেকটাউনে বসানো হয়েছিল ৭০ ফুট উচ্চতার তাঁর বিশাল পূর্ণাবয়ব মূর্তি। মেসি নিজেই ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেছিলেন। গত দুদিন ধরেই হাওয়ায় দুলছিল সেই মূর্তি। যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। তাই এবার লেকটাউনে অবস্থিত সেই মূর্তির কোমরে দড়ি বেঁধে সাময়িকভাবে আটকে রাখা হয়েছে। পূর্তদপ্তরের দাবি, ‘স্ট্রেন্দেনিং’-এর কাজ করে মূর্তিকে আগের অবস্থায় ফেরানো হবে।
গত ১৩ ডিসেম্বর সল্টলেক যুবভারতীতে মেসিকে নিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। মেসির সফরকে ঘিরেই লেকটাউন মোড়ের কাছেই ওই বিশাল মূর্তি বসিয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। যুবভারতীর অনুষ্ঠানে চরম বিশৃঙ্খলা হয়। মাঠ ছেড়ে চলে যান মেসি। তবে, মেসি লেকটাউনের মূর্তি ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করায় তাঁর ইনস্ট্রাগ্রাম ভিডিয়োতে ইন্ডিয়া সফরে ওই মূর্তি দেখা গিয়েছিল। তবে, মূর্তির আকৃতি, মুখ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক ছিলই। অনেকে বলছিলেন, মেসির মূর্তি হলেও তা দেখে বোঝার উপায় নেই!
গত সোমবার সকাল থেকে এই মূর্তিকে নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। দেখা যায়, হাওয়ায় দুলছে ওই বিশাল মূর্তি! তার নীচেই রয়েছে মাঠ। সেখানে অনেকে বসেন। পথচারীরাও ওই মূর্তির পাশ দিয়ে পারাপার করেন। তাই ভেঙে পড়লে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পূর্তদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার এবং লেকটাউন থানার পুলিশ পৌঁছায়।
পূর্তদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মূর্তিটি যেখানে বসানো হয়েছে, সেই জায়গাটি তাদের। অথচ, বসানোর আগে দপ্তরের নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) নেওয়া হয়নি। ফাউন্ডেশন বোল্টে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকেই কাজ শুরু হয়েছে। পূর্তদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, মূর্তিটি রেখেই স্ট্রেন্দেনিং’-এর কাজ করা হবে। তা না-হলে খোলা হতেও পারে। তবে, ভেঙে সরিয়ে দেওয়া হবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নিজস্ব চিত্র