• বনগাঁ থেকে বস্টন, ‘গণেশ ভূতোড়িয়া’কে জনপ্রিয় করেছিলেন ‘প্যানিক’ দত্ত: মীর
    এই সময় | ২৮ মে ২০২৬
  • মীর আফসার আলি
    সাল ২০১১। বাংলায় তৈরি হচ্ছে পলিটিক্যাল স্যাটায়ার কাম কমেডি জ্যঁরের একটি ছবি। নাম ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ (Bhooter Bhabishyat)। পরিচালক অনীক দত্ত। সেই ছবিরই একটি চরিত্রের নাম ‘গণেশ ভূতোড়িয়া’। অত্যন্ত লোভী, এক মারওয়াড়ি প্রোমোটার। এমনই একটি চরিত্রে অনীকদা আমাকে বাছলেন। কেন, কী ভাবে সে কথায় পরে আসছি।

    কাট টু ১৯৯৫...

    তখন আমার রেডিয়ো-জীবনের সবে এক বছর। তেমন নামডাকও হয়নি। একটি বিজ্ঞাপনী ছবিতে কণ্ঠ দেওয়ার জন্য অনীকদা প্রথম আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। আমি খুব আশ্চর্য হয়েছিলাম যে ওঁর মতো একজন প্রখ্যাত পরিচালক আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। বিখ্যাত একটি মশলা কোম্পানীর জন্য ভয়েস ওভার করলাম। সেই শুরু... তার পর থেকে নয় নয় করে ওঁর পরিচালিত ২০-২৫টা বিজ্ঞাপনী ছবিতে আমি কণ্ঠ দিয়েছিলাম। তার পর নাম করা একটি বিস্কুট কোম্পানীর বিজ্ঞাপনী ছবিতে আমি অভিনয়ও করেছিলাম।

    মাঝে অনেকটা সময় যে যার নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। তার পর হঠাৎ একদিন আমাকে অনীকদা ডেকে পাঠালেন ওঁর হিন্দুস্তান পার্কের বাড়িতে। ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এর স্ক্রিপ্টের কিছু কিছু অংশ শুনিয়ে ওঁর সহজাত ভঙ্গিতে বললেন, ‘তোমার জন্য একটা রোল আমি বেছে রেখেছি। তোমাকে বেশ মানাবে। একটু অন্যরকম চরিত্র। তাঁর নাম গণেশ ভূতোড়িয়া।’ ততদিনে কিন্তু আমার ‘বং কানেকশন’ (২০০৬) ছবিতে অভিনয় করা হয়ে গিয়েছে। মাঝের সময়টাতে আমি আর সে ভাবে অভিনয়ে মন দিইনি। তবে এই একটি মাত্র চরিত্রে অভিনয় করার জন্য আমি প্রবাসী বাঙালিদের কাছে ভীষণ আতিথেয়তা পেয়েছি। অথচ মজার বিষয় হলো, এই ‘গণেশ ভূতোড়িয়া’ চরিত্রটির জন্য অনীকদা কিন্তু প্রথম থেকে আমার কথা ভাবেননি। আসলে ওটি রমাপ্রসাদ বণিকের জন্য রাখা ছিল। রমাদা সেই সময় অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমাকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। বাকিটা তো ইতিহাস।

    আমার মতো অনেকের জীবনে সেরা কাজের লিস্টে এই ছবি থেকে যাবে। কয়েক মাস বাদে আবার ডাক পড়ল। এ বার ‘আশ্চর্য প্রদীপ’-এর জন্য। কিন্তু অনীকদা আমাকে চরিত্রটি ব্রিফ করলেন সেই একই রকম ভঙ্গিতে। বললেন, ‘তোমাকে মানাবে ভালো। একটা ল্যাজচোর ক্যারেক্টার।’ আমিও অভিনয় করলাম। মজা করে আমরা সকলে ওঁকে ‘প্যানিক’ দত্ত বলে ডাকতাম। লোকমুখে শুনেছি তিনি দীর্ঘ দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। মানসিক অবসাদেও ভুগছিলেন। যা ঘটল, তা বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অপূরণীয় ক্ষতি। ওঁর মতো পরিচালক বাংলা ইন্ডাস্ট্রি আর পাবে কি না, তা সময়ই বলবে। আমি শুধু একটাই কথা বলব, আমাদের মতো অনেকের জীবনে অনীকদার বিপুল অবদান রয়েছে। তিনি যেন বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ হয়ে থাকেন, ভূত হয়ে মিলিয়ে না যান।
  • Link to this news (এই সময়)