অনিমেষ দত্ত
পর্যটনের মরশুমে ছাত্রছাত্রীদের ভোগান্তি আর নয়। এ বার শুধুমাত্র স্কুল পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ ট্রেন চালু করতে চলেছে দার্জিলিং-হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইআর)। তীব্র গরম থেকে বাঁচতে কিংবা ছুটি কাটাতে পাহাড়ের জুড়ি মেলা ভার। আর বাঙালির পাহাড় মানেই দার্জিলিং। সমতলবাসীর ভিড়ে বর্তমানে সেখানে তিলধারণের জায়গা নেই। কেভেন্টার্সের সামনের রাস্তায় এখন গড়িয়াহাটের ভিড়! একই ছবি ঘুম থেকে দার্জিলিংগামী রাস্তাতেও। সারি সারি গাড়ি। কী সকাল, কী দুপুর, কী সন্ধে- রাস্তার বাঁকে গাড়ি থামিয়ে ছবি তোলার হিড়িক সর্বত্র। এর ফলে যানজটে জেরবার অবস্থা স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে স্থানীয় স্কুল পড়ুয়াদের সমস্যা সবচেয়ে বেশি।
প্রাথমিকের পড়ুয়াদের যখন স্কুলে যাওয়ার সময়, তখন পর্যটকরা পাহাড়ে সূর্যোদয়ের পরে প্রথম আলোর সুবাস গায়ে মাখেন। আবার হাইস্কুলের পড়ুয়ারা যখন বাড়ি ফেরে, তখনও পর্যটকরা সূর্যাস্ত দেখতে ভিড় জমান পহাড়ের বাঁকে বাঁকে। ফলে এই দুই সময়ে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। এতে সমস্যায় পড়ে স্থানীয় পড়ুয়ারা। ঘুম থেকে দার্জিলিংগামী মূল রাস্তা এবং তার আশেপাশে অন্তত ২০টি সরকারি-বেসরকারি স্কুল রয়েছে। অভিযোগ, ইদানীং পর্যটকবোঝাই গাড়ির সংখ্যা এত বেড়ে গিয়েছে যে, ওই আট কিলোমিটার রাস্তা পেরোতেই কোনও কোনও দিন আড়াই-তিন ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। এর ফলে ক্লাসে ঢুকতে দেরি হচ্ছে পড়ুয়াদের। তারা অংশ নিতে পারছে না প্রেয়ারে। এমনকী, স্কুল কামাইও হচ্ছে অনেকের।
স্থানীয় অভিভাবকরা প্রশাসনকে এ নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানালেও সমস্যার কোনও সুষ্ঠু সমাধান হচ্ছিল না। অবশেষে 'ত্রাতার' ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো ডিএইচআর। সিদ্ধান্ত হয়েছে, পরের সপ্তাহ থেকে দিনে দু'বার শুধুমাত্র স্কুল পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ ট্রেন চালাবে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে।
ডিএইআরের ডিরেক্টর ঋষভচৌধুরী জানিয়েছেন, সকালে স্কুল শুরুর আগে প্রথম ট্রেনটি ছাড়বে ঘুম থেকে। বিকেলে স্কুল ছুটির পরে দার্জিলিং থেকে ফের একই রুটে ঘুমে ফিরে আসবে ট্রেনটি। ঋষভের কথায়, 'পড়ুয়াদের সমস্যার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনের তরফে ব্যাপারটা দেখতে অনুরোধ করা হয়েছিল। সেইমতো আমরা ঘুম থেকে দার্জিলিং, আবার উল্টো রুটে বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে অন্য কেউ চড়তে পারবেন না। স্কুল ইউনিফর্ম ছাড়া কাউকে অ্যালাউ করা হবে না।' এই ট্রেনের ভাড়া কত হবে তা এখনও ঠিক হয়নি। তবে পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ ছাড় থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। খুব শিগগিরিই এ নিয়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে ডিএইচআর।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েও একটি ট্রেন পর্যাপ্ত নয় বলে মন্তব্য করেছেন গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শক্তিপ্রসাদ শর্মা। তাঁর কথায়, 'ওই রাস্তায় যানজটের কারণ শুধু পর্যটকবোঝাই গাড়ি নয়। পর্যটনের মরশুমে টয়ট্রেন পাস করাতে গিয়েও যানজট সৃষ্টি হয়। একটি ট্রেন চালিয়ে এই সমস্যা কতটা মিটবে জানি না। তবু কিছু তো কাজ হচ্ছে, এটা ভালো ব্যাপার।' পর্যটকবোঝাই দু'টি টয়ট্রেনের মাঝের সময়ের গ্যাপ বাড়ানো গেলে যানজট সমস্যা অনেকটা মোকাবিলা করা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।