তপন মণ্ডল, হাকিমপুর
বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য সীমান্তে জড়ো হওয়া অনুপ্রবেশকারীদের প্রশাসনের তরফ থেকে নিয়ে যাওয়া হলো হোল্ডিং ক্যাম্পে। মঙ্গলবারের পর বুধবারও সকাল থেকে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আনাগোনা শুরু হয় স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায়। এ দিন ৮০ জনের মতো অনুপ্রবেশকারী হাকিমপুর সীমান্তের চেকপোস্টে হাজির হন। তবে এ দিন কাউকেই সীমান্ত পারে যেতে দেওয়া হয়নি। বিকেলের দিকে পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্যোগে সীমান্তে জড়ো হওয়া বাংলাদেশিদের নিয়ে যাওয়া হয় হোল্ডিং সেন্টারে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বরূপনগরে তিনটি জায়গায় হোল্ডিং সেন্টার করা হয়েছে। সেন্টারগুলি করা হয়েছে তেঁতুলিয়া পথের সাথী, মেদিয়া ও চারঘাট এলাকায়। মঙ্গলবার হাকিমপুর সীমান্তে জড়ো হওয়া বাংলাদেশিদের রাতেই পুলিশ নিয়ে যায় হোল্ডিং সেন্টারে। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুরে বেশ কিছু বাংলাদেশিকে ও পারে ফেরত পাঠানো হলেও বিকেলের পর থেকে আর কাউকে বাংলাদেশে পাঠানো যায়নি।
পরে সীমান্তে কর্তব্যরত বিএসএফ ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-র মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কী ভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে পাঠানো যায় তা ঠিক করার পর ধাপে ধাপে হোল্ডিং সেন্টারে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো হবে।
এ দিন স্বরূপনগর সীমান্তের একটি হোল্ডিং সেন্টারে বসে রিপা বিবি নামে এক মহিলা বলেন, 'বেশ কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলাম। আমার ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, রেশন কার্ড সবই তৈরি করেছিলাম। দু'বার ভোটও দিয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারও পেতাম। কিন্তু এ বার ভোট দিতে পারিনি। এখন পুলিশ বলছে এখানে আর থাকতে দেবে না। তাই স্বামী ও দুই ছেলেকে নিয়ে দেশে ফিরে যাচ্ছি।'