: পেট্রোল ভরানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই রাস্তায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মোটরবাইক। একের পর এক গাড়ি বিকল হয়ে পড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরে। অভিযোগ উঠেছে, একটি পেট্রোল পাম্প থেকে জল মেশানো তেল দেওয়ার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা পাম্পে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া ছোট লাইন সংলগ্ন একটি পেট্রোল পাম্প থেকে তেল নেওয়ার পরই একাধিক মোটরসাইকেলে সমস্যা দেখা দেয়। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, তেল ভরানোর কিছু দূর যাওয়ার পরই বাইকের স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়। অনেককেই বাইক ঠেলে গ্যারেজ কিংবা ফের পাম্প পর্যন্ত নিয়ে আসতে হয়।গ্রাহক অভিজিৎ বৈদ্য অভিযোগ করে বলেন, “তেল ভরানোর পরই গাড়িতে সমস্যা শুরু হয়। বোতলে তেল বের করে দেখতেই দেখা যায় তেলের সঙ্গে স্পষ্ট জল রয়েছে। প্রায় সব গাড়ির একই অবস্থা। নতুন গাড়িগুলোর বড়সড় মেকানিক্যাল সমস্যা হতে পারে।”
তাঁর আরও দাবি, পাম্প কর্তৃপক্ষকে সমস্ত ক্ষতিপূরণ বহন করতে হবে। ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে গাড়ি সারানোর খরচ এবং ভরা তেলের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবিও জানান তিনি। এই বিষয়ে আরেক গ্রাহক মৃন্ময় চক্রবর্তী জানান, পাম্প থেকে তেল নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মোটরবাইক আচমকা বন্ধ হয়ে যায়। পরে গ্যারেজে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করার সময় মেকানিকরা ট্যাঙ্ক থেকে তেল বের করে দেখেন তাতে প্রচুর পরিমাণে জল রয়েছে। তাঁর দাবি, “এক লিটার তেলের মধ্যে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ জল ছিল।” এরপর আরও কয়েকজন গ্রাহকের একই সমস্যা সামনে আসতেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাম্প কর্তৃপক্ষ। পাম্পের প্রতিনিধি রাজু মুখার্জীর দাবি, পেট্রোলে কোনও জল মেশান হয়নি। তাঁর কথায়, “আজই নতুন তেল এসেছে। আনলোডিংয়ের পর দেখা যায় ইথানলের পরিমাণ কিছুটা বেশি রয়েছে। সেই কারণেই তেল দেখতে জল মেশান মনে হচ্ছে। আমরা ওয়াটার ডিপ এবং ডেনসিটি টেস্ট করেছি, সেখানে কোনও গরমিল পাওয়া যায়নি।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট তেল কোম্পানিকে জানানো হয়েছে। নমুনা পাঠান হয়েছে পরীক্ষার জন্য। রিপোর্ট আসার পরেই প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। আপাতত যে স্টকে সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, সেই নরমাল পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে শুধুমাত্র ‘স্পিড পেট্রোল’ বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গ্রাহকদের অভিযোগ ও পাম্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু হয়েছে। তেলের নমুনাও পরীক্ষার জন্য পাঠান হবে বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাটোয়া শহরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বহু গ্রাহকের প্রশ্ন, যদি সত্যিই তেলে কোনও সমস্যা না থাকে, তাহলে একসঙ্গে এত গাড়ি বিকল হল কীভাবে?