এ বার বীজপুর। আরও এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তারের পরে কোমরে দড়ি, গায়ে স্যান্ডো গেঞ্জি ও হাফ প্যান্ট পরিয়ে রাস্তায় ঘোরাল পুলিশ। এই দৃশ্য দেখতে রাস্তায় ভিড় জমালেন বহু মানুষ। সেখানে উঠল ‘চোর চোর’ স্লোগানও।
ধৃত তৃণমূল নেতার নাম অভিজিৎ রায় ওরফে বনি। তিনি বীজপুর এলাকায় তৃণমূলের যুব নেতা বলেই পরিচিত। কিছু দিন আগেই তাঁকে মন্দারমণি থেকে তোলাবাজি, বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে বীজপুর থানার পুলিশ। ব্যারাকপুর আদালতের নির্দেশে বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তের স্বার্থেই তাঁকে কাঁচরাপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গত সোমবার বনিকে রেলপুলিশের কোয়ার্টার ও নবীন পল্লি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তার পর বৃহস্পতিবার বীজপুর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ঘোরানো হয় তাঁকে। যদিও বনির দাবি, ‘যারা চুরি করেছে, তারা পালিয়ে গিয়েছে। আমি চুরি করিনি বলেই এখনও এখানে আছি।’
স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০২৩ সাল থেকেই এলাকায় বনির দাপট। অভিযোগ, রেল পুলিশের কোয়ার্টার দখল করে সেটিকে নিজের আস্তানা বানিয়েছিলেন তিনি। ওই কোয়ার্টারে কে থাকবেন, কে ঘর পাবেন— সব কিছুই বনির নির্দেশে চলত বলে দাবি স্থানীয়দের। এমনকী সেখানে অসামাজিক কাজকর্মও চলত বলেও অভিযোগ ওঠে। বেআইনি ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ করিয়ে এসি, ফ্রিজ় চালানো হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনের সময়ে বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে বনির প্রকাশ্যে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানে অর্জুনকে বনি হুমকি দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ। প্রসঙ্গত, অর্জুন বর্তমানে নোয়াপাড়ার বিধায়ক।
এ দিন বনিকে পুলিশ কোমরে দড়ি পরিয়ে রাস্তা ঘোরাচ্ছে দেখে স্থানীয়দের অনেকেই ধৃত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। এলাকাবাসীর একাংশের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ বনির দাপটে আতঙ্কে ছিলেন। পুলিশের এই পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তি পেয়েছেন অনেকে। বৃহস্পতিবার তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। প্রসঙ্গত, এর আগে হাওড়া এবং মহেশতলাতেও ধৃত তৃণমূল নেতাদের এ ভাবেই কোমরে দড়়ি বেঁধে রাস্তায় ঘুরিয়েছে পুলিশ।