আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বুধবার নবান্ন থেকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্প চালু করে দিয়েছে বিজেপি সরকার। এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য প্রত্যেক মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই।
প্রকল্পের ‘ফর্ম’ উন্মোচন ও সুবিধা পাওয়ার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়ার দিনেই সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি ফাঁস করেছেন বিগত সরকারের আমলের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের চাঞ্চল্যকর দুর্নীতি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার জানান, মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের রাকিবুল শেখ নামে এক ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে মহিলাদের জন্য বরাদ্দ লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা ঢুকত।
এই তথ্য সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় প্রশাসনিক মহলে। এরপর বুধবার রাতেই বহরমপুর থানার পুলিশ রাধারঘাট ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের শিয়ালমারা গ্রামের বাসিন্দা রাকিবুল শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ি থেকে আটক করে।
পুলিশি জেরায় রাকিবুল সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারায় রাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় ছোট হোটেল ব্যবসায়ী রাকিবুল আগে বিদেশে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।
পরে টাকা জমিয়ে মুর্শিদাবাদের বাড়িতে ফিরে এসে খাবারের একটি ছোট দোকান করেন। তবে এলাকায় ‘ভাল ছেলে’ হিসেবে পরিচিত রাকিবুলের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের যোগ ছিল না বলেই জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রাকিবুলের বিরুদ্ধে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮(৪), ৩৩৬(২), ৩৩৮, ৩৩৬(৩), ৩৪০(২), ৬১ (২), ৩(৫) ধারায় আর্থিক প্রতারণা, জালিয়াতি, জাল নথি ব্যবহার ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা রুজু করেছে।
কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে রাকিবুল টাকা পেয়েছেন এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কে বা কারা জড়িত রয়েছে তা জানতে রাকিবুলকে হেফাজতে রাখতে চায় পুলিশ।
সে কারণে ১২ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে বৃহস্পতিবার বহরমপুর সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়েছে অভিযুক্তকে। পুলিশি জেরায় রাকিবুল দাবি করেছেন, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কীভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকত সেই বিষয়ে তার কোনও ধারণা নেই।
জানা গিয়েছে, লক্ষীর ভাণ্ডারের ভাতা পাওয়ার বিষয়টি কয়েকজনকে জানিয়েছিলেন রাকিবুল। অভিযুক্তের দাবি, তারা বলেছিল, ‘টাকা যখন ঢুকছে নিয়ে নে।’ লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা বন্ধের জন্য তিনি কোথাও আবেদনও করেননি।
তবে গ্রেপ্তার হওয়ার পর রাকিবুল স্বীকার করেছেন, এই টাকা নেওয়া তার অন্যায় হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাকিবুলরা মোট পাঁচ ভাই। শিয়ালমারা এলাকায় তাদের বড় পরিবার রয়েছে।
তবে তাঁর পরিবারের অন্য কোনও পুরুষ সদস্য এই প্রকল্পের টাকা পাননি। সেক্ষেত্রে কীভাবে রাকিবুলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকত তা নিয়ে ধন্ধে পড়ে গিয়েছে গোটা পরিবার।
অন্যদিকে, একজন পুরুষ কীভাবে মাসের পর মাস মহিলাদের প্রকল্পের সুবিধা পেলেন, তা নিয়ে আলাদাভাবে তদন্ত শুরু করেছে বহরমপুর থানার পুলিশ। পাশাপাশি রাজ্যের প্রতিটি জেলায় আর কোনও পুরুষ, ‘মহিলা সেজে’ লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা তুলছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।