• কর্নাটকের কুরসিতে শিবকুমার, মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়েই রাজ্যসভার প্রস্তাব ফেরালেন সিদ্দা
    প্রতিদিন | ২৮ মে ২০২৬
  • জল্পনার অবসান। বৃহস্পতিবার কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিলেন সিদ্দারামাইয়া। তাঁর উত্তরসূরি হচ্ছেন ডিকে শিবকুমার। নিজেই একথা ঘোষণা করেছেন তিনি। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে রাজ্যসভার প্রস্তাবও ফিরিয়েছেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা। 

    বৃহস্পতিবার সকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে বসেন সিদ্দা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিবকুমারও। ওই বৈঠকেই বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি, উত্তরসূরি হিসাবে শিবকুমারের নাম অনুমোদন করেন। বৈঠক শেষে সিদ্দার পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন শিবকুমার। এরপরই লোকভবনে গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দেন সিদ্দা। যদিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট। রাজ্যপালের সচিবের হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দেন  সিদ্দা।

    ইস্তফা দেওয়ার পর এদিন বেলা তিনটে নাগাদ সাংবাদিক বৈঠক করেন সিদ্দা। সেখানে তিনি বলেন, “দুদিন আগে হাই কমান্ড আমাকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। দু’দফায় আমি কর্ণাটকের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি, তার জন্য আমি সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গেকে ধন্যবাদ জানাই।” কথা বলতে বলতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সিদ্দা। তিনি আরও বলেন, “গ্যারান্টি প্রকল্পগুলির কারণে কর্ণাটকে কোনও আর্থিক ঘাটতি নেই। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সিদ্দা বলেন, “আমি কোনওদিন টাকার পিছনে ছুটিনি। কোনওদিন ক্ষমতার লালসা করিনি।” তাঁর সংযোজন, “নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির একটি বড় অংশ আমরা পূরণ করেছি। বিরোধীরা আমাদের বিরুদ্ধে বারবার মিথ্য অবিযোগ এনেছে।”

    বুধবার সূত্র মারফত জানা গিয়েছিল, শিবকুমারকে কর্নাটকের কুরসিতে বসালেও সিদ্দাকে হতাশ করতে নারাজ কংগ্রেস। তাঁকে রাজ্যসভায় আসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, আগামী দিনে তাঁকে কেন্দ্রীয় স্তরে বড় দায়িত্ব দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে বলে খবর ছিল। বৃহস্পতিবার সেকথা স্বীকার করেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা। কিন্তু জানিয়ে দেন, রাজ্যসভায় যাওয়ার প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমাকে রাজ্যসভায় যেতে বলা হয়েছিল, কিন্তু সেই প্রস্তাব আমি ফিরিয়ে দিই। জাতীয় রাজনীতিতে যাওয়ার আমার কোনও ইচ্ছা নেই। আমি রাজ্যেই থাকতে চাই। জনগণ আমাকে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত করেছেন।, আর ২ বছর বাকি আছে। আমি কর্নাটকের হয়েই কাজ করব।”

     
  • Link to this news (প্রতিদিন)