জঙ্গলমহল সহ সমগ্র রাজ্যবাসীকে ‘রহিন পরব’-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আজকের এই পবিত্র দিনে পবিত্র মাটি ও বীজকে প্রণাম জানিয়ে কৃষিজীবী সমাজের সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই শুভেচ্ছাবার্তার হাত ধরেই জঙ্গলমহলের লাল মাটিতে যেন বেজে উঠল মাদলের সেই চেনা সুর। রুক্ষ মাটির বুক চিরে জেগে উঠল নতুন প্রাণের স্পন্দন। অরণ্যসুন্দরী জঙ্গলমহলের আদিবাসী ও কুড়মি সমাজের এ এক ঐতিহ্যবাহী কৃষি উৎসব। জ্যৈষ্ঠের তপ্ত দিনে মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জুড়ে আজ শুরু হয়েছে এই লোকপরব। এ যেন এক মাটির গন্ধ মাখা জীবনের উদযাপন।
রহিন উৎসবের মূল কথাই হল ফসল বপন। এটি আসলে প্রকৃতির কোল আলো করে আসা নতুন ফসলের আবাহন। একে ধরিত্রীর ঋতু পরিবর্তনের এক পবিত্র ক্ষণও বলা চলে। জঙ্গলমহলের কৃষিজীবী মানুষ এই বিশেষ দিনটিকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করেন। আজকের দিনে পবিত্র মাটি আর বীজকে প্রণাম জানিয়ে শুরু হয় ‘বীজপূণ্যা’। চাষিরা তাঁদের জমিতে ধানের চারা তৈরির জন্য প্রথম বীজ ছড়ান। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে শুরু হওয়া চাষের ফলন সোনার মতো খাঁটি হয়।
উৎসবের আচারগুলোও বেশ চমৎকার। এ দিন গ্রাম জুড়ে ‘রহিন মাটি’ সংগ্রহ করার ধুম পড়ে। ঘরের মহিলারা সেই মাটি দিয়ে উঠোন লেপেন। আদিবাসী ও কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষেরা বিশেষ ‘রহিন ফল’ খেয়ে বছরের প্রথম কৃষিকাজের শুভসূচনা করেন। প্রকৃতি এবং পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয় বিশেষ অর্ঘ্য। জঙ্গলমহলের এই আদিম সংস্কৃতি আধুনিকতার যুগেও তার নিজস্ব আচার ধরে রেখেছে। মাদলের বোলে, ঝুমুরের সুরে আর প্রকৃতির আরাধনায় রহিন পরব যেন মনে করিয়ে দেয়, সভ্যতার আসল শিকড় লুকিয়ে আছে এই মাটির বুকেই।