কোথা থেকে বক্সায় আসবে বাঘ? অসম-বিহারে নজর বনকর্তাদের
প্রতিদিন | ২৮ মে ২০২৬
কোথা থেকে বাঘ আসবে বক্সায়, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অসম ও বিহারের দিকে নজর পড়েছে বনকর্তাদের। যদিও বনকর্তাদের প্রথম পছন্দ অসম। কারণ, বনকর্তারা চাইছেন একই ল্যান্ডস্কেপ (ভূখণ্ড) থেকে বাঘ এনে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে ছাড়তে। একই ভূখণ্ড থেকে বাঘ এনে এখানে ছাড়লে সেই বাঘ সহজেই বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে। এখানকার পরিবেশ প্রকৃতি ও একই রকম শিকারের সন্ধান মিললে বাইরে থেকে আনলেও এই বনাঞ্চলকে তারা নিজেদের ঘর বলেই মনে করবে। আর সেই কারণে অসম থেকে বাঘ এনেই এই রাজ্যের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে ছাড়তে চাইছেন বনকর্তাদের একটি অংশ। অসম থেকে আনা সম্ভব না হলে বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে বাঘ এই অঞ্চলে আনা যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে অসমকেই প্রথম পছন্দের তালিকায় রেখেছে বনদপ্তর। যদিও বনকর্তারা এখন এই বিষয়ে কিছুই প্রকাশ্যে বলতে চাইছেন না। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য বনদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তারা ইতিমধ্যেই একাধিক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলিপুরদুয়ার নেচার ক্লাবের সম্পাদক ত্রিদিবেশ তালুকদার বলেন, “বনকর্তারা চাইছেন এই প্রকল্প যেন কোনভাবেই বিফল না হয়ে পড়ে। সেই কারণে একই ল্যান্ডস্কেপ থেকে বাঘ এনে এই বনাঞ্চলে ছাড়তে চাইছেন বনকর্তারা। একই ল্যান্ডস্ক্যাপের বাঘ হলে সেই বাঘের বনাঞ্চল পরিবর্তন হলেও তার সুস্থ সবল থাকার সম্ভাবনা বেশি। এমনকি অসম থেকে এই অঞ্চলে বাঘ আসার নিদর্শনও অতীতে ছিল বলে জানিয়েছেন কয়েকজন বনকর্তা। সেই কারণে একই ল্যান্ডস্কেপে থাকা অসম বা বিহার থেকে এখানে বাঘ এনে ছাড়তে চাইছেন বনকর্তারা।”
সম্প্রতি বাইরে থেকে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এনে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে ছাড়ার প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক। এই সিদ্ধান্তের পরেই রাজ্য বনদপ্তরে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে তা নিয়ে নানা ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। তবে বর্তমানে রাজ্যে পালাবদলের পর অসম ও পশ্চিমবঙ্গে একই রাজনৈতিক দলের সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এর ফলে অসম থেকে বাঘ আনা যে সহজ হয়ে উঠবে তা মনে করছে বিভিন্ন মহল। আগে একবার এই প্রকল্পের জন্য উদ্যোগ নিলেও অসম সরকার সম্মতি না দেওয়ায় তা আর এগোয় নি বলে জানিয়েছেন এক শ্রেণির বনকর্তারা। কিন্তু এবার প্রতিবেশি দুই রাজ্যে একই রাজনৈতিক দলের সরকার থাকায় খুব সহজেই এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছে বিভিন্ন মহল।
উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা বাঘ বন দেশের ১৫ তম বাঘ সংরক্ষিত এলাকার মর্যাদা পায়। সেসময় এই বনাঞ্চলে ২০টির বেশি বাঘ থাকার রেকর্ড ছিল। পাহার, সমতল মিলিয়ে মোট ৭৬০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে বক্সা বাঘ বন। কিন্তু ধীরে ধীরে এই বনাঞ্চল বাঘ শুন্য হয়ে গেছে। বর্তমানে এই বনাঞ্চলে একটিও বাঘ নেই। তবে শেষ কয়েক বছর ভুটান থেকে এই বনাঞ্চলে বাঘেদের আনাগোনা ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। এই অবস্থায় এখানে বাঘেদের স্থায়ী বসবাস গড়ে বাঘ থাকার পুরনো গৌরব ফেরাতে চাইছে বন দপ্তর। আর সেই কারণে বাইরের রাজ্য থেকে এই বনাঞ্চলে বাঘ এনে তাদের বংশবৃদ্ধি করার প্রকল্প হাতে নেয় বনদপ্তর (টাইগার রিইন্ট্রোডাকশন)।
এই প্রকল্পে বাইরের বনাঞ্চল থেকে দুই বাঘিনী ও এক বাঘ এনে প্রাথমিকভাবে একটি এনক্লোজারে ছাড়ার কথা বলা হয়েছে। বাঘ ও বাঘিনীর সকলের গলায় রেডিও কলার পড়ানো থাকবে। মাত্র অল্প কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করার পর রেডিও কলার পড়ানো সেই বাঘ বাঘিনীকে ছেড়ে দেওয়া হবে খোলা বনাঞ্চলে। আর রেডিও করারের মাধ্যমে তাদের গতিবিধির উপর নজর রাখবে বনদপ্তর। ইতিমধ্যেই সেই এনক্লোজার তৈরির কাজ শেষ করেছে বনদপ্তর। সেখানে বাঘেদের হরিণ ছাড়ার কাজও শেষ হয়েছে। এবার শুধু বাঘ এনে ছাড়লেই বক্সায় টাইগার রিইন্ট্রোডাকশন প্রকল্প চালু হয়ে যাবে।