৯০ এর দশকের ছেলেমেয়েদের কাছে এক নস্টালজিয়া সিডি ও ক্যাসেট। যখন ফোন ছিল না, তখন বিনোদনের এক অন্যতম মাধ্যম ছিল এগুলো। রাতের পর রাত সিডি ক্যাসেট লাগিয়ে ভিডিও চলত বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে। ডিভিডি প্লেয়ারে সিডি লাগিয়ে তা ছোট ছোট সাদাকালো টিভিতে দেখানো হত সাধারণ মানুষকে। মিঠুন, উত্তম সুচিত্রা কিংবা পুরনো অভিনেতা অভিনেত্রীদের একাধিক সিনেমা ছিল তৎকালীন মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। কিন্তু সভ্যতার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসেছে এককালের এই সমস্ত বিনোদনের মাধ্যম। এখন আর পাওয়া যায় না ক্যাসেট প্লেয়ার, নেই সিডিও। তবে এক ব্যক্তি নিজস্ব উদ্যোগে সযত্নে গুছিয়ে রেখেছেন ক্যাসেট ও সিডি। তার কাছে ক্যাসেট প্লেয়ার না থাকলেও রয়েছে ডিভিডি প্লেয়ার। যেখানে এখনও সিডি লাগিয়ে গান শোনেন ও সিনেমা দেখেন তিনি।
পশ্চিম মেদিনীপুরের বাংলা ওড়িশা সীমান্ত এলাকা দাঁতন ব্লকের সোলপাট্টা এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী এবং লেখক সুবলচন্দ্র দে। আজ থেকে বেশ কয়েক দশক আগে যখন ক্যাসেট ও সিডির প্রচলন শুরু হয় তখন থেকেই তিনি এক এক করে কিনতে থাকেন ক্যাসেট ও সিডি। আগে বাড়িতে ছিল ক্যাসেট প্লেয়ার ও ডিভিডি প্লেয়ার। তবে বিভিন্ন পার্টস এর অপ্রতুলতার কারণে এখন আর চলে না ক্যাসেট। তবে ক্যাসেট প্লেয়ারের ও খোঁজ করছেন তিনি। তবে এখনও বিভিন্ন ধরনের পুরনো সাহিত্য নির্ভর সিনেমা যেমন দেবদাস, পথের পাঁচালী-সহ বিভিন্ন সিনেমা দেখেন তিনি তাও ডিভিডি প্লেয়ার-এ।
প্রসঙ্গত নব্বইয়ের দশকে ছেলেমেয়েদের কাছে এখনও নস্টালজিয়া এই সমস্ত জিনিস। বর্তমান প্রজন্ম জানে না ক্যাসেট কিংবা সিডি কেমন? কীভাবে তা কাজ করে। সিডি হল প্লাস্টিকের একটা ছোট্ট ডিস্ক। এবং ক্যাসেট হল ছোট আয়তাকার রিল ঢোকানো এক বিশেষ জিনিস। সুবল বাবুর সংগ্রহে রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার সিডি ও কয়েক হাজার ক্যাসেট। সিডিতে থাকা প্রতিটি সিনেমা তিনি দেখেছেন। এখনও সময় পেলে সিডি লাগিয়ে গান শোনা, সিনেমা দেখেন তিনি।
সময় অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মধ্যে এসেছে বদল। সিডি কিংবা ক্যাসেটের পরিবর্তে এসেছে পেনড্রাইভ এমনকি ওটিটি প্লাটফর্ম। হাতের মুঠোয় থাকা মোবাইল ফোনের কারণে যেকোনও সময় যেকোনও মুহূর্তে বিভিন্ন জিনিস ইন্টারনেটের মধ্য দিয়ে দেখে নেওয়া সম্ভব। তবে কালের নিয়মে হারিয়ে যেতে বসা এই নস্টালজিয়াকে বাঁচিয়ে রেখেছেন সুবল বাবু। এখনও চকচকে ডিস্ক, নতুনের মত ক্যাসেট। স্বাভাবিকভাবে মানুষের নস্টালজিয়া বাঁচিয়ে রেখেছেন তিনি। তার এই ভাবনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলে।