রান্নাঘরের ফেলনা উপাদানেই তৈরি হচ্ছে জামা-কাপড়ের টেকসই রঙ! বাঁকুড়ার এই ভেষজ ফর্মুলায় চমকে যাবেন আপনিও
News18 বাংলা | ২৮ মে ২০২৬
: প্রাচীন দেশীয় পদ্ধতি মেনে জৈব রং উৎপাদন! জৈব রং উৎপাদন কথার অর্থ হল, রং উৎপাদন করতে গিয়ে কোনও রকম রাসায়নিকের ব্যবহার না করে, ফল, ফুল, সবজি কিংবা গাছের পাতা ব্যবহার করা। একদম জৈব পদ্ধতিতে লাল, নীল, হলুদ, সবুজ, খয়রি রং উৎপাদন করে সেই রং দিয়ে দেশীয় সুতির বস্ত্র তৈরি হচ্ছে পুরুলিয়া জেলায়। কাজটি করছে মহাত্মা গান্ধি সেবা সংস্থান ফাউন্ডেশন। এই কাজ করে একগুচ্ছ গ্রাম হচ্ছে স্বনির্ভর। জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদন করার রং যেমন চোখের শান্তি, ঠিক তেমনই প্রকৃতির জন্য অনন্য।
আচ্ছা তবে জেনে নেওয়া যাক ঠিক কী কী দিয়ে এই রংগুলি তৈরি হচ্ছে। নীল রং তৈরি করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ঐতিহাসিক নীল বা indigo। হালকা হলুদ তৈরি হচ্ছে হরিতকি দিয়ে। খয়রি কালারের দু’টি শেড যা দেখে মনে হবে হলুদ সেগুলি তৈরি হচ্ছে পেঁয়াজের খোসা এবং ক্ষয়ের দিয়ে তৈরি হচ্ছে খয়রি রং, অবশেষে উজ্জ্বল হলুদ রং তৈরি হচ্ছে পলাশ ফুল দিয়ে। গ্রামের প্রায় ৩৫ জন মহিলা এবং ৪০ জন পুরুষ মিলে করছেন এই কাজ। পুরুলিয়া জেলার মানবাজার ১ ব্লকের টুক্য এবং তার সংলগ্ন কয়েকটি গ্রামে চলছে কাজ।
বিশেষজ্ঞ অরূপ রক্ষিত বলেন, উজ্জল সিন্থেটিক জামাকাপড় তৈরি করতে ব্যবহার করা হয় ভয়ংকর সব প্লাস্টিকের ভেরিয়েন্ট। এই ভেরিয়েন্টগুলি যখন বর্জ্য পদার্থ হিসেবে নদী-নালায় গিয়ে পড়ে তখন সেই বাস্তুতন্ত্রের জন্য বিষ হয়ে দাঁড়ায় আমাদের প্রিয় উজ্জ্বল রংওয়ালা সিনথেটিক জামাকাপড়গুলি। অপরদিকে জৈব পদ্ধতিতে তৈরি সুতির এবং প্রাকৃতিক রঙে রাঙিয়ে ওঠা জামা কাপড় পরলে প্রকৃতির কোনও ক্ষতি হয় না। গোটা পৃথিবী এই দিকেই এগিয়ে চলেছে।
বর্তমানে পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রার প্রতি মানুষের আগ্রহ যত বাড়ছে, ততই পুরুলিয়ার এই উদ্যোগ নতুন দিশা দেখাচ্ছে। প্রাচীন দেশীয় পদ্ধতি ও প্রকৃতি নির্ভর জৈব রং উৎপাদনের মাধ্যমে একদিকে যেমন গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে, তেমনই রাসায়নিক দূষণমুক্ত পরিবেশ গঠনের পথও সুগম হচ্ছে। স্বনির্ভরতার পাশাপাশি ঐতিহ্য ও পরিবেশ রক্ষার এই অনন্য উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে বলেই আশাবাদী স্থানীয়রা।