জামাইষষ্ঠীর আগে রেকর্ড দর পতন হিমসাগরের, দাম জানলে এখুনি বস্তা নিয়ে ছুটবেন
News18 বাংলা | ২৮ মে ২০২৬
অতিরিক্ত ফলনে দাম ধস। মাথায় হাত আম চাষিদের। এবছর আমের ফলন ভাল হলেও বাজারদরের বেহাল অবস্থায় মাথায় হাত পড়েছে আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের। অতিরিক্ত ফলনের কারণে বাজারে আমের যোগান বেড়েছে ব্যাপকভাবে। আর সেই কারণেই মিলছে না আশানুরূপ দাম। কাঁচা আমের দাম যেমন কম, তেমনই পাকা আম বিক্রি করেও উৎপাদন ও পাকানোর খরচ উঠছে না বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
বর্তমানে শান্তিপুরের বিভিন্ন আমের আড়তে ব্যস্ততা তুঙ্গে। সামনে জামাইষষ্ঠী থাকায় হঠাৎ করেই বেড়েছে আমের চাহিদা। সেই কারণে নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত কাজ করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। শান্তিপুরের বিখ্যাত হিমসাগর আম এখন রাজ্যের পাশাপাশি ভিনরাজ্যেও পাঠানো হচ্ছে। ত্রিপুরা, বিহার, ওড়িশা, কলকাতা ছাড়াও দিল্লি, মুম্বাই ও গয়ার বাজারেও পৌঁছে যাচ্ছে এই আম। ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমানে পাইকারি বাজারে কাঁচা আম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি মাত্র ১৫ থেকে ১৬ টাকায়।
অন্যদিকে গাছ পাকা আমের পাইকারি দাম রয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। তবে দূরবর্তী রাজ্যে পাকা আম পাঠালে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাঁচা আম বিশেষ প্যাকেজিং করে পাঠানো হচ্ছে। পরে কার্বাইডের মাধ্যমে পাকিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে আম। চাষিদের একাংশ জানিয়েছেন, এবছর ঝড়-বৃষ্টি ও আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার কারণে আমের বাহ্যিক সৌন্দর্য আগের মত হয়নি।
অনেক আমেই দাগ পড়েছে বা আকারে ছোট হয়েছে। তবে দেখতে খুব একটা আকর্ষণীয় না হলেও স্বাদে এবারের আম অত্যন্ত ভাল হবে বলে দাবি তাদের। অন্যদিকে রফতানির ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে সমস্যা। পেট্রোল ও পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী ভিনরাজ্যে আম পাঠাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে ফলন ভাল হলেও লাভের মুখ দেখতে পারছেন না চাষিরা। তবুও ব্যবসায়ীদের আশা, জামাইষষ্ঠীকে কেন্দ্র করে বাজারে চাহিদা আরও বাড়বে এবং কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।