উপার্জনের মোক্ষম সময়, আতঙ্কের মাঝেও সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা
News18 বাংলা | ২৮ মে ২০২৬
বর্ষা আসতে না আসতেই চরম ব্যস্ততা নদী পাড়ে। সেজে উঠছে নৌকা। কোমর বেঁধে প্রস্তুত নদী পাড়ের বাসিন্দা থেকে শুরু করে জেলে এবং কৃষকরা। এই সময় নদী পাড়ের বাসিন্দাদের আর্থিক উপার্জনের মোক্ষম সময়, এমনটাই জানালেন তারা। কিন্তু যেই নদী দিচ্ছে জীবিকা, আবার সেই নদীই বাড়াচ্ছে দুশ্চিন্তা! তিস্তার বুকে বর্ষার ডাক মানেই জীবিকার লড়াই আর উদ্বেগ। বুকের কোণে আশঙ্কাকে সঙ্গী করেই দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।
জলপাইগুড়ির তিস্তা একদিকে যেমন আর্থিক যোগান দেয়, তেমনি ত্রাস হিসেবেও পরিচিত। কারণ বর্ষাকালে সমতলের বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি পাহাড়ি বৃষ্টিপাতের জেরে হুহু করে বেড়ে যায় জলস্তর। যার জেরে কার্যত বন্যার কোপে পড়তে হয় নদী পাড়ের বাসিন্দাদের। কিন্তু পেট তো তা মানে না। তাই তিস্তার পারে এখন জোর প্রস্তুতি। নদীর ধারে এখন সারি সারি নৌকা। কোথাও নৌকার গায়ে আলকাতরা মেখে চলছে মেরামতির কাজ, আবার কোথাও জেলেরা জাল আর সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত।
কারণ, বর্ষাকাল মানেই তিস্তার বুক ভরে ওঠে নানা মাছের সম্ভার। এই সময়টাই বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়ের সুযোগ বলে মনে করেন স্থানীয় জেলেরা। পাশাপাশি নদীতে ভেসে আসা জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করেও জীবিকা নির্বাহ করেন বহু পরিবার। তিস্তার চর এলাকার কৃষকদের কাছেও নৌকা হয়ে উঠেছে জীবনরেখা। চাষের সরঞ্জাম আনা-নেওয়া হোক কিংবা দৈনন্দিন যাতায়াত বর্ষায় নৌকাই একমাত্র ভরসা।পাহাড়ে টানা বৃষ্টি আর সমতলে অবিরাম বর্ষণের জেরে ধীরে ধীরে বাড়ছে তিস্তার জলস্তর।
আর এই পরিস্থিতিতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষজন। জীবিকা আর নিরাপত্তার দ্বৈত চিন্তায় কাটছে দিন। জলস্তর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তা বাঁধ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা চিন্তিত সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে। অতীতের অভিজ্ঞতা এখনও তাজা, তাই প্রস্তুতির পাশাপাশি সতর্ক নজরও রাখছেন সকলে। প্রশাসনের তরফে মাইকিং করা শুরু হয়ে গিয়েছে। মাইকিং করে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে। বর্ষা নামতেই একদিকে তিস্তা পাড়ে শুরু হয়েছে জীবিকার লড়াই। কিন্তু সেই লড়াইয়ের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তার ছায়াও।