• রেলগেটে আর ফাঁসতে হবে না, তিন দশকের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে শুরু হয়ে গেল বিরাট কাজ
    News18 বাংলা | ২৮ মে ২০২৬
  • মেমারিবাসীর জন্য সুখবর। রেলগেট বন্ধ থাকায় দীর্ঘক্ষনের হয়রানি কমতে চলেছে এবার। ফলে যাতায়াত হবে আরও সহজ, বাঁচবে সময়। অবশেষে পূরণ হতে চলেছে মেমারিবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। মেমারি ও রসুলপুর রেলগেটে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ওভারহেড রেল ব্রিজ নির্মাণে উদ্যোগী হয়েছে রেল ও নতুন সরকার। এদিন দুই রেলগেট পরিদর্শন করেন রেল ও রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকরা, সঙ্গে ছিলেন মেমারীর নবনির্বাচিত বিধায়ক মানব গুহ। বর্ধমান হাওড়া মেন লাইন শাখায় দুটি রেলগেট রয়েছে জি টি রোডের ওপর। এই শাখায় লোকাল ও দূরপাল্লার ট্রেনের আধিক্যের কারণে রেলগেট দুটি বারে বারে বন্ধ হয়ে যায়। আবার অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকে গেটগুলি।

    ফলে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন পথ চলতি সাধারণ মানুষ। এবার এখানে তৈরি হতে চলেছে ফোর লেনের ওভারহেড ব্রিজ। বেশ কয়েক বছর আগে মেমারিতে ওভারহেড রেল ব্রিজ তৈরির জন্য রাস্তার দু’ধারে থাকা বড় বড় গাছ কাটার হলেও রেল ব্রিজ তৈরির কাজ শুরু হয়নি আর। এদিন রেল ও রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকরা পরিদর্শনে আসায় এবার আশার আলো দেখছেন এলাকাবাসীরা। এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, এই দুটি রেলগেটে ওভারহেড ব্রিজ তৈরি হলে দীর্ঘদিনের সমস্যা থেকে মিলবে মুক্তি। হয়রানি কমবে শহরবাসীর। মেমারি শহরকে দু’ভাগে ভাগ করে হাওড়া-বর্ধমান মেন লাইন। মেমারি শহরে রয়েছে তিনটি রেলগেট। একটি রয়েছে জিটি রোডের ওপর ও অন্যটি রয়েছে কৃষ্ণ বাজার এলাকায়।

    পাশাপাশি ইলামপুর এলাকায় আরেকটি রেলগেট থাকলেও রাস্তা সংকীর্ণ ও দূরত্ব বেশি হওয়ায় সেটি খুব কম মানুষই ব্যবহার করেন। এমনকি চারচাকা ছোট গাড়ি কোনও রকমে যাতায়াত করতে পারলেও লরি বা অন্য গাড়ি যাতায়াত করতেই পারে না এই রাস্তা দিয়ে। রেল গেটের একপাশে রয়েছে হাসপাতাল, দমকল, বিডিও অফিস অন্যদিকে রয়েছে থানা। কার্যত রেলগেট দ্বারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে শহর। এর ফলে রেলগেট দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকলে একদিকে যেমন যানজটের সৃষ্টি হয়, তেমনই মেমারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাওয়া রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে গেটে আটকে থাকতে হয়। আবার জি টি রোডের উপর অবস্থিত রসুলপুর রেলগেট দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকলে মেমারির দিক থেকে বর্ধমানের দিকে আসা রোগীদেরও রেলগেটে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ফলে মেমারি থেকে বর্ধমান যাওয়ার সময় বাড়ে।

    ফলে মেমারিতে ওভারহেড রেলওভার ব্রিজ হলে যেমন হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পাবেন শহরবাসী, তেমনই রসুলপুরে ওভারহেড রেলওভার ব্রিজ হলে বর্ধমানের সঙ্গে সময়ের দূরত্ব কমবে। বর্ধমানে রোগী নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও হয়রানি কমবে। বিধায়ক বলেন, মেমারি ও রসুলপুরের গেট মেমারি বিধানসভা এলাকার মানুষের কাছে একটি আতঙ্ক হয়ে উঠেছিল। এটি দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সমস্যা। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব রেখেছিলাম, উনি আমার কথা শুনেছেন। পরিদর্শন হল খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, শহরের মধ্যে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে একটি আন্ডারপাস তৈরি করার প্রস্তাবও এসেছে। সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হবে। এই দুই ওভারহেড রেল ব্রিজ তৈরি হলে মিটবে দীর্ঘদিনের সমস্যা, ভোগান্তি কমবে এলাকাবাসীর।
  • Link to this news (News18 বাংলা)