মডেল-অভিনেত্রী ত্বিষা শর্মার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার তাঁর শাশুড়ি গিরিবালা সিং। বৃহস্পতিবার ভোপালের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। প্রাক্তন জেলা বিচারক গিরিবালার আগাম জামিনের আবেদন বুধবারই খারিজ করে দিয়েছিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। ঘটনাচক্রে, তার পরেই গ্রেপ্তার করা হয় গিরিবালাকে।
বৃহস্পতিবার সকালে গিরিবালার বাড়িতে যান তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, তাঁকে বেশ কিছু ক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার পরেই গ্রেপ্তার করা হয় প্রাক্তন বিচারককে। ত্বিষার মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই যে এফআইআর দায়ের করেছে, তাতে গিরিবালার নাম রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পণের দাবি নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
গত ১২ মে ত্বিষার দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই পলাতক ছিলেন তাঁর স্বামী সমর্থ সিং। ১০ দিন পালিয়ে বেড়ানোর পর তাঁকে আগেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সমর্থের পুলিশকে দেওয়া কিছু বয়ানও এখন সিবিআই তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর, সমর্থ মধ্যপ্রদেশ পুলিশের তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছেন, বিয়ের পর থেকে তাঁর সঙ্গে ত্বিষার সম্পর্ক নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে গিয়েছিল। প্রায়ই ঝগড়া হতো তাঁদের মধ্যে। কিন্তু ত্বিষাকে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা কখনও ঘটেনি। দাম্পত্যকলহ আরও তীব্র ত্বিষার ভাইয়ের বিয়ের সময় থেকে। নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ত্বিষার গর্ভবতী হওয়া এবং পরে গর্ভপাতের বিষয় নিয়ে।
তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, জেরায় সমর্থের দাবি, তিনি বাবা হতে চাইতেন। কিন্তু ত্বিষা তা চাইতেন না। ত্বিষার জোর করে গর্ভপাত করিয়েছেন। সমর্থের এই দাবি যাচাই করতে গিয়ে তদন্তকারীদের নজরে ত্বিষার কিছু হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজও রয়েছে। সূত্রের খবর, সেই সব মেসেজে ত্বিষার বক্তব্য, তাঁর গর্ভবতী হওয়া এবং সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সমর্থ। সিবিআই সূত্রে খবর, সমর্থ দাবি করেছেন, ত্বিষার বাইপোলার ডিজ়অর্ডার ছিল। যখন-তখন তাঁর মেজাজ বদলে যেত। এর জন্য তাঁকে চিকিৎসকের কাছেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন সমর্থ।
গত সোমবার দায়ের হওয়া সেই সিবিআই এফআইআর অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর ত্বিষা এবং সমর্থ সিংয়ের বিয়ে হয়েছিল। তার পর থেকে পণ নিয়ে ত্বিষার উপর নানা রকম ভাবে নির্যাতন চলে বলে অভিযোগ। মডেল-অভিনেত্রীর পরিবারের অভিযোগ, তাদের মেয়েকে মানসিক ও শারীরিক ভাবে হেনস্থা করেন শ্বাশুড়ি গিরিবালা এবং স্বামী সমর্থ।