‘নিচুতলা থেকে উপরতলা সকলেই দুর্নীতিগ্রস্ত।’ রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সম্পর্কে এমনই গুরুতর অভিযোগ করেছেন সদ্য ইস্তফা দেওয়া ভাটপাড়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দেবজ্যোতি ঘোষ।
তাঁর আরও অভিযোগ, ভাটপাডা এলাকায় দুর্নীতি হয়েছে। আর সেই দুর্নীতির কথা বার বার ক্যামাক স্ট্রিটে জানানো হয়েছিল। কিন্তু, কোনও কাজ হয়নি। দেবজ্যোতির দাবি, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনে তাঁরা কাজ করেছেন। কিন্তু, তাঁদের অভিযোগের কখনও শোনা হয়নি। তাঁর কথায়, ‘এলাকার নেতারা সব লুট করে খেয়েছে। সেই কারণেই দলে এই বিপর্যয় হয়েছে।’
তৃণমূলের ভরাডুবির কারণ নিয়ে এই সময় লাইভে মুখ খুললেন ভাটপাড়া পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান দেবজ্যোতি ঘোষ।তবে, তিনি এখন তৃণমূলের ভাটপাড়া শহরের সভাপতি। ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি পদত্যাগ করলেও দলীয় পদ থেকে ছাড়েননি।
তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে দেবজ্যোতি ঘোষ তাঁকে কটাক্ষ করেন। তিনি জানান, ২০১১ সালে দল ক্ষমতায় আসার পরে অনেকে দলে ঢুকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তো ২০১৯ সালে অর্জুন সিং বিজেপিতে চলে যাওয়ার পরে অনেকে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ১৯৯০ সাল থেকে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছে্ন। দেবজ্যোতির ক্ষোভ, যাঁরা ২০১৯ সালে দলে যোগ দিলেন, তাঁরা নেতা হয়ে গেলেন। এলাকার বিধায়কও হয়ে গেলেন।কিন্তু, দলের প্রতি তাঁদের কোনও ভালোবাসা নেই। তাঁর কটাক্ষ,’ সবাই লুট করতে এসেছিল।’
তাঁর আরও অভিযোগ, ভাটপাড়া পুরসভায় ৫০টি পুকুর ভরাট হয়েছে। বার বার দলীয় নেতৃত্বকে বিষয়টি লিখিত ভাবে অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু, কাজের কাজ হয়নি। পুরসভায় তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সোমনাথ শ্যামের অফিস ছিল। সেখান থেকে সব কাজ চলত। তাঁর মা ছিলেন পুরসভার চেয়ারম্যান। তাঁর মায়ের বয়স ৮৬ বছর।পুরসভায় চালাতেন সোমনাথ।কাজ না করে লুট করেছেন তিনি। ভাটপাড়া পুরসভায় কোনও উন্নয়ন হয়নি। মানুষ ব্যালট বক্সে তার যোগ্য জবাব দিয়ে দিয়েছে। এই বিষয়ে তৃণমূল নেতা তথা জগদ্দলের প্রাক্তন বিধায়ক সোমনাথ শ্যামকে ফোন করা হলে তিনি ফোন না ধরায় তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান জানান, দলে ভরাডুবি হওয়ার পর থেকে বহু কর্মী পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। দলের কোনও নেতা খোঁজ পর্যন্ত নেননি। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ বিধায়ক এলাকায় নেই। তবে, বিজেপির হামলার ভয়ে তাঁরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন, এমনটা নয়। কারণ, বিজেপি সে ভাবে হামলাই করেনি। আসলে বিধায়করা যা দুর্নীতি করেছেন, তার জন্য তাঁরা আক্রান্ত হতে পারেন বলেই তাঁরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন।
দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী যখন তৃণমূলের রাজ্য যুব সভাপতি ছিলেন, আমিও দলের যুব নেতা ছিলাম। খুব কাছে থেকে তাঁকে দেখেছি। তিনি অত্যন্ত ডায়ানমিক লিডার। তিনি সিস্টেমের নেতা নন। মূলত, এই সিস্টেমের নেতা বলতে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বোঝাতে চেয়েছেন। ইন্টারভিউয়ে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে অর্জুন সিংয়ের নাম বার বার তিনি নিয়েছেন। বিজেপিতে যোগদানের বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি জানান, সময়ই সব কিছু বলে দেবে।’