মিল্টন সেন: আর রাস্তায় নয়। রাজ্যের নির্দেশ মেনে পান্ডুয়ায় ঈদের নামাজ হল মাদ্রাসায়। কলকাতার রেড রোডের পর সব থেকে বড় ঈদের নামাজ হয় পান্ডুয়ায়। বহু বছর ধরে চলে আসছিল এই প্রথা। "ঈদ-উল-ফিতর" হোক বা "ঈদ-উল-আযহা" বহু বছর ধরে হুগলির পান্ডুয়ার কলবাজার এলাকায় জিটি রোডের উপর ঈদের নামাজ পাঠের আয়োজন করা হয়। কিন্তু এবছর দেখা গেল ভিন্ন চিত্র।
রাস্তায় যান চলাচল ছিল অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। ঈদ-উল-আযহার নামাজ হলো পান্ডুয়ার দারুল উলুম মাদ্রাসার ভিতরে মাঠে। কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলিম মানুষ এদিনের নামাজ পাঠে অংশ নেন। এটি হল ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ঈদ-উল-ফিতরের পর দ্বিতীয় প্রধান উৎসব।
অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হুগলি গ্রামীণ পুলিশের আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা ছিল। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে হাজী কামরুল হুদা বলেন, "রাস্তা বন্ধ করে নামাজ পড়ায় প্রশ্ন রয়েছে। আমরা নিজে থেকেই প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব দিয়েছি যদি মাদ্রাসার ভিতরে নামাজ পাঠ করার। সেই মতো আমরা মাদ্রাসার ভিতরে নামাজ পাঠ করেছি এবং সেখানে সুন্দরভাবে নামাজ হয়েছে। আগে কলকাতায় ঈদের নামাজ হতো ব্রিগেড মাঠে। তবে এক বছর বৃষ্টি হওয়াতে মাঠ কাদায় ভরে যায়। তারপর থেকে রেড রোডে নামাজ শুরু। এবছর রেড রোডের নামাজে যদি পরিবর্তন করতে পারেন তাঁরা, তাহলে আমরা কেন পারব না।"
তিনি আরও বলেন, " আমরা স্বেচ্ছায় করেছি, আমাদের কেউ বারণ করেনি। তবে আমরা আর রাস্তায় করব না।" এদিন বাঁশবেড়িয়া গাজি দরগা ও হুগলি ইমামবাড়াতেও নিষ্ঠার সঙ্গে ঈদের নামাজ পাঠ করা হয়।
এদিকে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট-এর উদ্যোগে ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে এলাকার বিভিন্ন মসজিদ ও সংবেদনশীল এলাকায় বিশেষ পরিদর্শন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়। এই পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন চন্দননগর থানার আইসি চন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, ডিসি ডিডি রূপান্তর সেনগুপ্ত ট্রাফিক ইনচার্জ মানদত্তা সাউ সহ চন্দননগর থানার অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরা।
পুলিশ প্রশাসনের তরফে এলাকার বিভিন্ন মসজিদ পরিদর্শন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, জনসমাগম পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে খুঁটিনাটি বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। ঈদের নামাজের সময় যাতে অন্যান্য মানুষের কোনও অসুবিধা না হয় এবং মুসলিম ধর্মীয় সকলেই যাতে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে তাঁদের পবিত্র ঈদ উৎসব পালন করতে পারেন, সেই বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।
পুলিশ আধিকারিকরা মসজিদ কমিটির সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। এছাড়া, উৎসব চলাকালীন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ট্রাফিকের নজরদাড়ি বাড়ানো হয়। হেলমেটবিহীন চালকদের জরিমানা নিয়ে সচেতনও করা হয়। মোতায়েন করা হয়েছিল অতিরিক্ত পুলিশ। বাড়ানো হয়েছিল টহলদারি। সঙ্গে ছিল সিসিটিভি নজরদারি।
চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাসিন্দারা আশাবাদী, প্রশাসনের এই সক্রিয় ভূমিকার ফলে ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে এলাকায় সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও নিরাপত্তার পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।