আজকাল ওয়েবডেস্ক: জুন মাস বাংলার ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের কাছে পৌষমাস। ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ যোজনায় মিলবে তিন হাজার টাকা করে। নতুন আবেদনকারীদের এই জন্য পূরণ করতে হবে ১২ পাতার 'ফ্যামিলি লেভেল ডেটা কালেকশন ফর্ম'। পারিবক ও আর্থিক স্থিতি অর্থাৎ পরিবারের প্রধানের আয় কত, পরিবারে কোনও চারচাকা গাড়ি আছে কি না, কিংবা পাকা বাড়ি আছে কি না (থাকলে কটি)- তা নির্দিষ্ট করে জানাতে হবে। এছাড়াও ব্যাঙ্ক ডিটেলস, পরিবারের কোন সদস্য কোথায় চাকরি করেন এবং পরিবারের কারও নামে স্বাস্থ্যবিমা আছে কি না, পরিবারে কতজন শিশু সদস্য রয়েছে, তাদের নাম এবং তারা কোন ক্লাসে পড়ে, - সব জানাতে হবে। ফর্মে তথ্য দেওয়াকে কেন্দ্র করেই নানা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিষয়টিকে অনেকেই জটিল বলে দেগে দিচ্ছেন।
তবে, বৃহস্পতিবার এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বেনিয়ম ঠাকাতেই যে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ যোজনার ফর্মপূরণে কঠোর নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে তা স্পষ্ট করে দিয়ছেন তিনি। অগ্নিমিত্রার কথায়, "এই যোজনায় আবেদনকারীর আয়কর ফাইল থাকলে তিনি টাকা পাবেন না। তা না হলে অবশ্যই পাবেন। আবেদনকারীর বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।"
বিগত মমতা সরকারের আমলে চালু হয়েছিল 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্প। শেষপর্যন্ত এই প্রকল্পে মাসে ১৫০০ টাকা ও এসটি, এসসি-রা ১৭০০ চাকা করে পেতেন। কিন্তু, এই প্রকল্পের অর্থ বন্টন ঘিরে বেনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। দেখা যাচ্ছে, বহু পুরষও এই প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন। এ ধরনের দুর্নীতি রাজ্যের বিজেপি সরকার বরদাস্ত করবে না বলেই জানিয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
আবেদনকারীর নামে বাড়ি থাকলে কী ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ মিলবে? অগ্নিমিত্রা বলেন, "আপাতত আয়করের বিষয়টিই দেখা হবে। বাকি তথ্যগুলো ভবিষ্যতের জন্য কাজে লাগবে। দায়সাড়া ভাবে কোনও কিছু হচ্ছে না। চারচাকা গাড়ি থাকলে তা ফর্মে না উল্লেখ করলেও তা ধরা পড়ে যাবে। ফলে মা-বোনেদের বলব অস্য কথা বলবেন না। ফর্ম জমার পর তা খতিয়ে দেখা হবে। তখন ধরা পড়ে গেলে ব্ল্যাক লিস্ট হয়ে যাবেন।"
কেন সন্তানদের কথা উল্লেখ করতে হবে ফর্মে? মন্ত্রী কথায়, "আবেদনকারীর সন্তান সরকারি নির্দেশ মেনে সব ভ্যাকসিন নিয়েছেন কিনা এমন সবকিছু তথ্যে ধরা পড়বে। খারিজি মাদ্রাসা সরকার অনুমোদন করে না। সেখানে সন্তান পড়লে টাকা মিলবে না। অর্থাৎ, সরকারি নির্দেশ অভিভাবক মেনেছেন কিনা সেটা অগ্রাধিকারের বিষয়।"
বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার কেন্দ্রীয় সব যোজনা এ রাজ্যে কার্যকর করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এক্ষেত্রে আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্য অন্যযোজনার ক্ষেত্রেও কাজে লাগবে বলে জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল।
নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ৩ জুন নবান্নে থেকে ৫-৬ জন আবেদনকারীর হাতে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ যোজনার সুবিধা তুলে দেওয়া হবে।