ক্লাব দখলকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর কোন্দল ঘিরে রণক্ষেত্র!
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৯ মে ২০২৬
বারাসতের হৃদয়পুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পরিস্থিতি। অভিযোগ, ‘আদি’ ও ‘নব্য’ বিজেপি গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন মঙ্গলবার চরম সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বিজেপির বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি রাজীব পোদ্দার। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হৃদয়পুর স্টেশন লাগোয়া বি.আর. অম্বেদকর স্পোর্টিং ক্লাবের দখল ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই প্রথমে বচসা শুরু হয়। ধীরে ধীরে সেই বচসা হাতাহাতি এবং পরে ব্যাপক সংঘর্ষে পরিণত হয়। অভিযোগ, দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলায় জড়িয়ে পড়ে। এতে একাধিক কর্মী-সমর্থক আহত হন। আহতদের বারাসাত জেলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ফের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। সেই সময় বিজেপির জেলা সভাপতি রাজীব পোদ্দারের বাড়িতেও হামলা চালানো হয় এবং তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার জেরে বারাসাত–টাকি রোড ও হাসপাতাল চত্বর জুড়ে রাতভর ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
ঘটনাস্থলে পৌঁছন বারাসত জেলা পুলিশের সুপার পুষ্পা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দুর্বার বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এসডিপিও বিদ্যাগর অজিঙ্ক্য অনন্ত-সহ শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিজেপির একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলেই পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রশাসনের গাফিলতিই এই সংঘর্ষকে আরও বাড়তে সাহায্য করেছে।
হাসপাতালে পৌঁছে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু হিংসা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারা এই সংঘর্ষে জড়িত, পুলিশ তা খুঁজে বের করুক। দোষীদের কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘দলকে দুর্বল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে। তবে বিজেপি আইন হাতে তুলে নেওয়ায় বিশ্বাস করে না। আমরা প্রশাসনের কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি।’