৮ কিমি যেতে তিনঘণ্টা! পর্যটকদের চাপে পাহাড়ে গলদঘর্ম পড়ুয়াদের পাশে রেল
প্রতিদিন | ২৯ মে ২০২৬
পালাবদলের পর রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার হতে পাহাড়ে রেলের ‘মাস্টার স্ট্রোক’। ভরা পর্যটন মরশুমে তীব্র যানজট এড়িয়ে ছাত্রছাত্রীদের ঠিক সময়ে স্কুলে পৌঁছে দিতে বিশেষ ‘স্কুল টয় ট্রেন’ পরিষেবা চালু করতে উদ্যোগী হয়েছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে অর্থাৎ ডিএইআর। সকালে স্কুল শুরুর আগে ট্রেনটি ছাড়বে ঘুম থেকে। বিকেলে স্কুল ছুটির পরে দার্জিলিং থেকে ফের একই রুটে ঘুমে ফিরে আসবে। আগামী সপ্তাহ থেকেই রেলের পরিষেবা একেবারে পুরোদমে চালু হয়ে যাবে। তবে এই বিশেষ ট্রেনে স্কুল ইউনিফর্ম ছাড়া কেউ উঠতে পারবে না। থাকবে ভাড়ায় বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা।
গ্রীষ্মের পর্যটন মরশুমে ঠাই নেই দশা শৈল শহরে। ঘুম থেকে দার্জিলিংগামী সড়কে সারি দিয়ে গাড়ির লাইন। সকাল থেকে সন্ধ্যে একই পরিস্থিতি চলছে। রাস্তার বাঁকে গাড়ি থামিয়ে ছবি তোলার হিড়িক সর্বত্র। এর ফলে যানজটে জেরবার অবস্থা স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে স্থানীয় স্কুল পড়ুয়াদের সমস্যা সবচেয়ে বেশি। পর্যটকদের সমতল থেকে পাহাড়ে পাড়ি দিতে যানজটে আটকে ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় পড়ে থাকতে হচ্ছে। কাহিল দশা হয়েছে পাহাড়বাসীরও। বিশেষত স্কুল পড়ুয়ারা বেশি বিপাকে পড়েছে। কেউ সময় মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারছে না। স্কুল কামাই হচ্ছে অনেকের। কারণ ঘুম থেকে দার্জিলিংগামী সড়ক ও তার আশেপাশে অন্তত ২০টি সরকারি-বেসরকারি স্কুল রয়েছে। গ্রীষ্ম মরশুমে পর্যটকবোঝাই গাড়ির সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ওই কারণে ভোর থেকে যানজট নিত্যসঙ্গী হয়েছে। ঘুম থেকে আট কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে কোনও দিন আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। ফলে ক্লাসে ঢুকতে দেরি হচ্ছে পড়ুয়াদের। অংশ নিতে পারছে না প্রেয়ারে। অনেকে নিরুপায় হয়ে স্কুল কামাই করতে বাধ্য হচ্ছে। ভোরে প্রাথমিকের পড়ুয়ারা যখন স্কুলে যায় তখন পর্যটকরা টাইগার হিল থেকে সূর্যোদয় দেখতে রাস্তায় নামেন। একইভাবে হাইস্কুলের পড়ুয়ারা যখন বাড়ি ফেরে তখন পর্যটকরা সূর্যাস্ত দেখতে ভিড় জমান বিভিন্ন উঁচু এলাকায়। এই দুই সময়ে ব্যাপক যানজটের কবলে পড়তে হয় পড়ুয়াদের। তবে ওই সমস্যা আজকের নতুন নয়। কিন্তু অভিযোগ, এতদিন সমস্যার কথা জিটিএ-সহ প্রশসনের কর্তদের জানিয়ে কোনও লাভ হয়নি। অবশেষে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে এগিয়ে আসায় সমস্যা মিটতে চলেছে।
সংস্থার অধিকর্তা ঋষভ চৌধুরী বলেন, “সকালে স্কুল শুরুর আগে প্রথম ট্রেন ছাড়বে ঘুম থেকে। বিকেলে স্কুল ছুটির পরে দার্জিলিং থেকে ফের একই রুটে ঘুমে ফিরে আসবে। ছাত্রছাত্রীদের সমস্যার কথা চিন্তা করে ওই পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই ট্রেনে ছাত্রছাত্রী অন্য কেউ চড়তে পারবে না। স্কুল ইউনিফর্ম ছাড়া কাউকে উঠতে দেওয়া হবে না।” ট্রেনের ভাড়া কত হবে সেটা অবশ্য এখনও ঠিক হয়নি। তবে পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ ছাড় থাকবে বলে জানিয়েছেন দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।