ঠিক যেন সিনেমা! একসময় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। সিমেন্টের উপর ইট গেঁথে চলত দিনযাপন। তাতে অবশ্য দিন চলাই যেন দায় ছিল। তাই আয় বাড়াতে অন্যের গাড়ি চালাতে শুরু করেন। সেখান থেকে নিজের গাড়ি ভাড়ায় চালাতেন। সেখান থেকে রাজনীতিতে পা। তারপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। রকেট গতিতে উত্থান বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। পাটখেতের মাটি খুঁড়ে ২ কোটি ২৪ লক্ষ ৭ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বাদুড়িয়ার বাটুলডাঙার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। স্থানীয় সূত্রে খবর, গত ২০১০ সালে কংগ্রেসের হয়ে ভোটে লড়েন তিনি। বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান হন। ২০১৩ সালে দলবদল। তৃণমূলে যোগ দেন। ২০১৫ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান ছিল। এরপর ২০১৮ সালে তৎকালীন চেয়ারম্যান তুষার সিংহের মৃত্যু হয়। পুনরায় চেয়ারম্যান পদ ফিরে পান দীপঙ্কর। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার ‘ত্রাস’ ছিলেন দীপঙ্কর। আবাস যোজনা, চাকরি দুর্নীতির কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছেন তিনি। জমি, বাড়ির বেআইনি কারবারও নাকি করতেন ওই পুর চেয়ারম্যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এক একজনের সঙ্গে এক একরকমভাবে প্রতারণা করেছেন তিনি। আবাস যোজনার বাড়ি দেওয়ার নাম করে কারও থেকে ১০ হাজার টাকা, কারও থেকে ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ বাড়ি পেয়েছেন। আবার কেউবা মিথ্যে প্রতিশ্রুতি ছাড়া পাননি কিছুই। এক মহিলার দাবি, তাঁর কাছ থেকে আধার কার্ড নিয়ে ভুয়ো চেকবুক তৈরি করে। তাঁর অ্যাকাউন্টে থাকা টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন দীপঙ্কর। তৃণমূলের আমলে বারবার স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে গিয়েছেন বেশ কয়েকজন। তবে লাভ হয়নি। পরিবর্তে পুলিশ দিয়ে হেনস্তা এমনকী প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হত বলেও অভিযোগ।
সেই দীপঙ্করের পাটখেতে তল্লাশি চালিয়ে গুপ্তধনের খোঁজ পায় পুলিশ। মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হয় একাধিক টাকা ভর্তি বস্তা। বুধবার সন্ধ্যা থেকে সেই টাকার গোনার কাজ শুরু হয়। বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক এবং ব্যাঙ্ক কর্মীদের উপস্থিতিতে গোটা রাত ধরে চলে টাকা গণনার কাজ। বেশ কয়েকবার গণনা শেষে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ ২ কোটি ২৪ লক্ষ। এর বাইরেও আর কোথাও সম্পত্তি লুকিয়ে রাখা হয়েছে কিনা তা জানতে ধৃত পুরপ্রধান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে দফায় দফায় জেরা করছেন পুলিশ আধিকারিকরা। শুধু তাই নয়, কোটি কোটি টাকার উৎস কীভাবে তাও জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।