ভদ্রেশ্বর পুরসভায় গণ ইস্তফা! ইন্দ্রনীল সেন ঘনিষ্ঠ চেয়ারম্যান-সহ পদত্যাগ ৮ কাউন্সিলরের
প্রতিদিন | ২৯ মে ২০২৬
রাজ্যে পালাবদলের পর একের পর একে পুরসভায় ইস্তফা দিচ্ছেন তৃণমূলের কাউন্সিলররা। এবার ভদ্রেশ্বর পুরসভার মোট ৮ জন কাউন্সিলর পুরসভার ইও (এক্সিকিউটিভ অফিসার)-র কাছে বৃহস্পতিবার পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর মধ্যে রয়েছেন ভদ্রেশ্বর পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী। তিনি তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এই ঘটনায় ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে ভদ্রেশ্বর পুরসভায়।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি ও দলের হেভিওয়েট মন্ত্রী তথা চন্দননগরের বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেন পরাজিত হতেই বদলে যায় রাজনৈতিক সমীকরণ। এর জেরেই রাজ্যের অন্যান্য় পুরসভা ও পুরনিগমের ধাচে এবার ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ ৮ কাউন্সিলর পদত্যাগ করলেন। বৃহস্পতিবার পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেন ভদ্রেশ্বর পুরসভার পুরপ্রধান প্রলয় চক্রবর্তী-সহ মোট ৮ জন তৃণমূল কাউন্সিলর। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের কারণে বোর্ড চালাতে সমস্যার কারণেই এই পদত্যাগ বলে জানা গিয়েছে। তৃণমূল সূত্রে খবর, ভদ্রেশ্বর পুরসভার ৮ তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করলেও পুর বোর্ড চালাতে অসুবিধা হবে না। ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ খানের নেতৃত্বে বোর্ড চলবে।
বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে হুগলি জেলায় কোনও পুরসভায় এই প্রথম কাউন্সিলরদের পদত্যাগের ঘটনা ঘটল। চন্দননগর বিধানসভার অন্তর্গত ভদ্রেশ্বর পুরসভায় ২২ টি ওয়ার্ড রয়েছে। ছাব্বিশের নির্বাচনে চন্দননগরে ১৩ হাজার ভোটে পরাজিত হন ইন্দ্রনীল সেন। ভদ্রেশ্বর পুর এলাকাতেও পিছিয়ে ছিলেন তিনি। দলের এই বিপর্যয়ে নৈতিক দায় নিয়ে পদত্যাগ করলেন ভদ্রেশ্বর পুরসভার তৃণমূল চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী।
এ দিন পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর পুরপ্রধান প্রলয় চক্রবর্তী বলেন, আমাকে বিজেপি বা তৃণমূল কেউই পদ ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেনি। নতুন সরকার মানুষের রায় নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তারা মানুষের জন্য কাজ করুক। আমি স্বেচ্ছায় এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে আমার পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছি। এ বিষয়ে চন্দননগরের বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ বলেন, মানুষ নাগরিক পরিষেবা পাচ্ছে না। এরফলে মানুষের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সেই কারণেই জনরোষের ভয়ে তাঁদের ‘অন্তরাত্মা জাগ্রত’ হয়েছে বলে কটাক্ষ করেন দীপাঞ্জন।
গতকালই ইন্দ্রনীল সেন জানিয়েছিলেন, তিনি রাজনীতিতে থাকলেও রাজনীতিবিদ নন। পাশাপাশি তিনি জানিয়ে দেন, ভোট রাজনীতিতে তিনি আর থাকবেন না। কোনও নির্বাচনেই তিনি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। ভোট রাজনীতি সম্পর্কে তাঁর কাছে অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। এরপরই আজ তাঁর ঘনিষ্ঠ পুরপ্রধান-সহ ৮ কাউন্সিলর ইস্তফা দেন।